রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে 'মোহাম্মদ হোসাইন শাহরিয়ারের কবিতায় নৈতিক ও মানবিক চেতনা' শীর্ষক সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। সোমবার ( ৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনে বিভাগের হল কক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্যদ্বয় অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম ও অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ এবং কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।
গেস্ট অব অনার হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকাস্থ ইরানি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সিলর মাহদি মৌলায়ী আরানি।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্কের প্রশংসা করেন। এসময় তিনি ইরান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফারসি বিভাগ বহু বছর ধরে ইরানের সঙ্গে সাংস্কৃতিক, ভাষাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। নানা চ্যালেঞ্জ ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে গিয়েও দেশটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যার মূলে রয়েছে দেশটির শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ভিত্তি।
তিনি রুমি, হাফিজ ও ফেরদৌসির মতো সাহিত্যিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি জাবের ইবনে হাইয়ান ও ইবনে সিনার মতো বিজ্ঞানীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান নিজের সংকল্পের বলে টিকে আছে, যা থেকে শেখার আছে অনেক কিছু।
সেমিনারে বিখ্যাত কবি হোসেন শহরিয়ারের সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি ইরানি দূতাবাসের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, শিগগিরই ইরানের রাষ্ট্রদূত বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন, যেখানে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
এছাড়াও সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর ড. ইসমাঈল সাদেকি, অধ্যাপক ড. মো. নূরুল হুদা এবং অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের প্রভাষক জনাব মো. কামাল হোসাইন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তাহমিনা বেগম। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে বিভাগকে সুন্দর করে সাজিয়েছে। আর এই সকল আয়োজনকে সফল করেছে আমাদের অতিথিবৃন্দ। সবাই আন্তরিকতার জায়গা থেকে আমাদের আয়োজনে উপস্থিত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এই ধারা অব্যাহত রেখে আমরা ফারসি বিভাগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উর্দু বিভাগের অধ্যাপক মো. সামিউল ইসলাম, ফারসি বিভাগের অধ্যাপক রিজওয়ানা ইসলাম শাম্মি, অধ্যাপক আতাউল্যাহ, অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল্লাহ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সিনিয়র অধ্যাপক মো. শামীম খান, অধ্যাপক ওসমান গণি এবং দুই প্রভাষক রুজন মন্ডল ও আতকিয়া বৃষ্টি।
অনুষ্ঠানে বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা ফারসি গান, নাটক, কবিতা এবং গজল পরিবেশন করেন।