রাবি প্রতিনিধি
শিবির ও রাকসু কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা। এতে সমর্থন জানিয়ে অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তারা ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো: আগামী ১০ দিনের মধ্যে হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনতে হবে; যে সকল রাকসু প্রতিনিধিরা এই সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত তাদেরকে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে অপসারণ ও বহিষ্কার করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে রাকসুর সদস্যদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে; নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে যে ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে, তার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সকল ধরনের সহিংসতা ও ভয়ভীতি থেকে মুক্ত রাখতে প্রশাসনকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিজয় ২৪ হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গাজী ফেরদৌস হাসান বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা হয়েছে। শিবিরের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাম সংগঠনের উপর হামলার মাধ্যমে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সম্পর্কে জানান দিয়েছে। আমরা আশি-নব্বইয়ের দশকে দেখতে পেয়েছিলাম তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে। তারা এখন পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসতেছে।’
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, ‘যার হাতে কলম তুলে নেওয়ার কথা ছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটু আশা রেখে যাকে ভোট দিয়ে জিএস নির্বাচিত করেছিল, তাকে দেখা গেছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী যে বেলচা বা সরঞ্জাম দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সেই বেলচা হাতে, অস্ত্র হাতে আরেকজন শিক্ষার্থীকে আহত ও লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে লাইব্রেরির মতো পড়াশোনার পরিবেশে সেটি প্রয়োগ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে সংগঠনটি ১৯৭১ সালে এ দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে দিতে চেয়েছিল, তাদের তৎপরতা চলছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঐতিহাসিক নথি সংরক্ষিত রয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি, এই হামলার পেছনে এক বিশাল ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। ওই পাকিস্তানি ক্যান্টনমেন্টের ভাবধারায় যারা চক্রান্ত করছে, ‘তোমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দখলে নাও, লাইব্রেরি দখলে নাও, সেখানে যত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আছে সেগুলোকে মুছে দাও’ তারই অংশ হিসেবে তারা লাইব্রেরিতে হামলা করেছে। আর ছাত্রলীগ ধরার কথা বলাটা একটি বাহানা মাত্র।’
শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘আম্মার এবং ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জঙ্গি স্টাইলে নেক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো হত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করা।’
রাকসু ভিপির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল দেখলাম রাকসু ভিপি সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ করার জন্য হুমকি প্রদান করেছে। আমরা বলব স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ছাত্রশিবিরকে আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা আপনাদের পাশে আছি। শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সমর্থন দিয়ে পাশে ছিল। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।’
মানববন্ধন কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা তাঁদের ৫ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে রাকসু ও শাখা শিবিরের নেতৃবৃন্দ।