কক্সবাজার প্রতিনিধি
টেকনাফে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে রামুর পাঁচ যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি এবং নৌপথে বিদেশে পাচারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পর শুক্রবার ভোরে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন খনকারপাড়া ঘাট থেকে পাঁচজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি)। এ সময় মো. আনাস ওরফে মুন্না নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের সময় চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।
এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করে।
এসআরবি সূত্র জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার মিঠাছড়ি এলাকার পাঁচ যুবককে সাবরাং জিরো পয়েন্ট সমুদ্রসৈকতসহ টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর কথা বলে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। পরে রাতে টেকনাফে মুন্নার বাড়িতে থাকার কথা বলে তাঁদের অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, সেখানে পাঁচ যুবককে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তাঁদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে নৌপথে তাঁদের ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
এ ঘটনায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে র্যাব-১৫-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোরে সাবরাং জিরো পয়েন্ট মেরিন ড্রাইভ সড়কের খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে পাঁচ যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় আনাস ওরফে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবিবপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে।
উদ্ধার হওয়া পাঁচজন হলেন—রামুর মিঠাছড়ি এলাকার আল আমিন কাউসার (১৮), মো. রাশেদ (২০), সাকিবুল হাসান সাকিব (১৮), মো. সাইফুল ইসলাম (১৬) ও মো. আব্দুল্লাহ (১৬)।
এসআরবি জানায়, অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। উদ্ধার পাঁচ যুবকের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাঁদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আনাস ওরফে মুন্নাকেও পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও মানবপাচারের অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রোববার রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি)-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক।