নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল পাঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন এবং বদলির আদেশ স্থগিত হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, রাস্তা ও বিভিন্ন উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পর সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল পাঠান পরিদর্শনে গিয়ে কাজের নানা ত্রুটি দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে বিল পেতে জটিলতা তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। নিয়মিতভাবে কাজের বিল থেকে এক শতাংশ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইকবাল পাঠান।
ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, ইকবাল পাঠানের ভাই মোজাম্মেল পাঠান ও চাচা আমজাদ পাঠানও সদর উপজেলা এলাকায় ঠিকাদারি কাজ করেন। তাদের হয়ে ইকবাল পাঠান ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ইকবাল পাঠান দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে নরসিংদী সদর উপজেলায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তারা।
ঠিকাদারদের দাবি, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সম্প্রতি বদলির আদেশ হলেও তা স্থগিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাকে নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায় বদলি করা হয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর ওই বদলি আদেশ স্থগিত করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ঠিকাদারদের প্রশ্ন, কী কারণে বদলি স্থগিত হলো এবং এর পেছনে প্রভাব বা বিশেষ কোনো কারণ রয়েছে কি না।
এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল পাঠান বলেন, তিনি নরসিংদীর স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে শাপলা চত্বরে বসবাস করেন। বদলির আদেশ হয়েছিল এবং ১০ সেপ্টেম্বর সেটি স্থগিত হয়েছে। তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন। মায়ের অসুস্থতা এবং সন্তানদের দেখভালের বিষয় বিবেচনায় বদলি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঠিকাদারদের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইকবাল পাঠান বলেন, তিনি কোনো ঠিকাদারের কাছ থেকে এক শতাংশ টাকা নেন না। কাজের মান নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় কিছু ঠিকাদার তার ওপর অসন্তুষ্ট হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নরসিংদী সদর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল হক বলেন, ইকবাল পাঠান কাজের মান ভালো না হলে ঠিকাদারদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করেন। এ কারণে কিছু ঠিকাদার তার ওপর অসন্তুষ্ট হতে পারেন। তবে তিনি কোনো টাকা-পয়সা নেন না বলেও জানান রেজাউল হক। তিনি বলেন, ইকবাল পাঠানের বদলির আদেশ হয়েছিল এবং পরে সেটি স্থগিত হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি যাচাই এবং স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।