সিয়াম, ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জনকারী বিশ্বজয়ী হাফেজে কুরআন মো. নুরুদ্দীন জাকারিয়াকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে তাঁর উস্তাদ ও আর-রায়হান মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি নুরুল করীম মোল্লা এবং তাঁর বাবা নুরুল আমিনকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।
চরমোনাই পীরের আমন্ত্রণে বাদ জোহর চরমোনাই মাদ্রাসায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীরা নুরুদ্দীন জাকারিয়ার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসাধারণ সাফল্যের প্রশংসা করেন।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তিলাওয়াত করেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীমের ছোট সাহেবজাদা মো. মিফতাহুল করীম। তাঁর হৃদয়স্পর্শী তিলাওয়াত উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। তিলাওয়াত শেষে আর-রায়হান মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের পক্ষ থেকে তাঁকে সৌদি আরবের ১০০ রিয়াল হাদিয়া দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নুরুদ্দীন জাকারিয়ার বাবা নুরুল আমিন বলেন, “আমিও এই চরমোনাই জামিয়ার ছাত্র। শায়খে চরমোনাই ও পীর সাহেব হুজুর আমার উস্তাদ।” একই সঙ্গে ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম দেশের বর্তমান ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বজয়ী হাফেজদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ সময় সরকারের গাফিলতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম হাফেজ নুরুদ্দীন জাকারিয়ার অসাধারণ অর্জনের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বজয়ী এই হাফেজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও দ্বীনি খেদমতের জন্য দোয়া করেন।
পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে হাফেজ নুরুদ্দীন জাকারিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।