মাছুম বিল্লাহ, লালমোহন
ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধ খুর্চি জালের কারণে মাছ ধরতে পারছেন না সাধারণ জেলেরা। ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন সংলগ্ন নদীর প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে এই খুর্চি জাল।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায় বসানো এই জালে আটকা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণুপোনা ও জলজপ্রাণী। ফলে মাছের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুর্চি জাল বসানোর জন্য নদীতে জেগে ওঠা সরকারি বনাঞ্চলের শতাধিক গাছ কেটে খুঁটি তৈরি করা হয়েছে। সেই খুঁটিতে বাঁধা হয়েছে দীর্ঘ জাল।
লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের গাইট্টা মাছ ঘাটের জেলে ফারুক মাঝি, শফি মাঝি ও রবু মাঝি জানান, এই ভরা মৌসুমেও নদীতে মাছ নেই। আগে একটি নৌকায় দৈনিক ৮-১০ হাজার টাকার মাছ পেতাম। এখন ১ হাজার টাকার মাছও পাই না। নদীর সব মাছ এই খুর্চি জালেই আটকা পড়ছে।
তারা আরও বলেন, দুই বছর আগে একবার প্রশাসন এই জাল উচ্ছেদ করেছিল। কিন্তু এখন আবার একইভাবে জাল বসানো হয়েছে। দ্রুত এই অবৈধ জাল উচ্ছেদ করা হোক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, খুর্চি জালের মাছ বিক্রির টাকার ভাগ যায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর কাছে। তাই অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজনও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ বলেন, জনবল সংকটের কারণে এখনো অভিযান করা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ খুর্চি জাল উচ্ছেদে উদ্যোগ নেওয়া হবে।