টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্তও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গত কয়েক দিন ধরে টেকনাফে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হয়। এতে উপজেলার হ্নীলা, টেকনাফ সদর, পৌরসভা, হোয়াইক্যং, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে যায়। ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপের কিছু এলাকাতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় টেকনাফে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও টমটমসহ যানবাহনের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেককে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
হ্নীলার রঙ্গিখালী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। সকালে বের হয়ে দেখি রাস্তাঘাট ও বাড়ির আশপাশে পানি বেড়ে গেছে। হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষায় একই সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু স্থায়ীভাবে এর সমাধান হচ্ছে না।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, নালা-নর্দমার দুর্বলতা এবং পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকায় বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই একই ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষও বিপাকে পড়েছেন। নিম্নআয়ের অনেক মানুষের দৈনন্দিন কাজ ও আয়-রোজগারও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে পানি সরানোর উদ্যোগের পাশাপাশি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ও টেকসই পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে খাল, নালা ও পানি চলাচলের প্রাকৃতিক পথগুলো সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বারবার জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকনাফের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।