Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম

‘ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন’ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী রাতের আঁধারে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে গিয়ে সরঞ্জাম ফেলে পালালো চক্র মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: জুবাইদা রহমান জ্বালানি সংকট কাটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন প্রাইভেট পড়ালে এমপিও বন্ধ: ফারজানা শারমীন পুতুল প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা স্পষ্ট: ফখরুল জুলাই যোদ্ধাদের অটোরিকশা-রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী ‘হাসিনা কার্ড’ খেলা বন্ধ করতে ভারতের প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

রাতের আঁধারে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে গিয়ে সরঞ্জাম ফেলে পালালো চক্র

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ৮ আগস্ট,২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
রাতের আঁধারে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে গিয়ে সরঞ্জাম ফেলে পালালো চক্র

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অনুমোদন ছাড়াই রাতের আঁধারে বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের চেষ্টা করেছে একটি চক্র। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে ঘটনাস্থলে নিজেদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও খুঁটি অপসারণের বিভিন্ন সরঞ্জাম ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বড়জোড়া গ্রামের ধ্বংসের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল ও খুঁটি অপসারণের সরঞ্জাম জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় আবু তাহেরের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৮) জানান, তাঁর বাড়ির সামনে খালি জায়গায় থাকা একটি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের জন্য প্রায় চার মাস আগে ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেন। তখন তাঁকে এ বিষয়ে আবেদন করতে বলা হয়। পরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান তছলিম (আইডি নম্বর-৬০১০) এর সঙ্গে খুঁটি স্থানান্তরের বিষয়ে কথা হয়।

আনোয়ারের দাবি, তছলিম তাঁকে জানান, অফিসে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে খুঁটি স্থানান্তর করতে ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগতে পারে এবং খরচ হবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। তবে ২০ হাজার টাকা দিলে অফিস ‘ম্যানেজ’ করে দ্রুত কাজটি করে দেওয়ার কথা জানান তিনি। পরে খুঁটি সরানোর চুক্তিতে দুই কিস্তিতে তছলিমকে ২০ হাজার টাকা দেন আনোয়ার।

আনোয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে তছলিম ৮ থেকে ১০ জন লোক নিয়ে এলাকায় আসেন। পরে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে গোপনে খুঁটি স্থানান্তরের কাজ শুরু করা হয়।

এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বড়জোড়া গ্রামের বাসিন্দা ফখরউদ্দিন ভূঁইয়া সন্ধ্যার পর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারণ জানতে অফিস থেকে লাইনম্যান মাসুদ রানা ও লাইন টেকনিশিয়ান মৃদুল জোয়ারদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে একটি খুঁটি স্থানান্তরের কাজ চলছে। বিষয়টি অফিসকে জানিয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যান।

পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করলে সাংবাদিকদের খবর দেওয়া হয়। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে খুঁটি স্থানান্তরের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় খুঁটির ওপর থাকা নুরুজ্জামান নামের একজন আটকা পড়েন। পরে তিনিও দৌড়ে অন্ধকারে পালিয়ে যান।

নুরুজ্জামান নিজেকে গৌরীপুর উপজেলার চরশ্রীরামপুর গ্রামের হাতেম ক্বারীর ছেলে এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ঠিকাদারদের ফ্লোরম্যান হিসেবে পরিচয় দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের রুহুল আমিন তাঁকে ওই কাজে নিয়ে এসেছেন। তবে কাজটির বৈধতার বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

রুহুল আমিন নিজেকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, ইলেকট্রিশিয়ান তছলিম তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি কাজটি সম্পূর্ণ অবৈধ বলে বুঝতে পারেন। পরে লোকজন আসার বিষয়টি টের পেয়ে মানহানির ভয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

তবে তছলিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁকে রুহুল আমিন ওই কাজে নিয়ে যান। আনোয়ারের সঙ্গে টাকা লেনদেনের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, আনোয়ার সরাসরি নুরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম কাউসার মোহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ চক্রটির ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে থানায় নিয়ে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশি আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অনিতা বর্ধন বলেন, ছুটির দিন থাকায় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন না। ঘটনাটি শুনেছেন। জিএমের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর জিএম নূর মোহাম্মদ বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)