টেকনাফ প্রতিনিধি
টেকনাফের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অপহরণ, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়ার প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৯ জুলাই) টেকনাফ মডেল থানায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রতিনিধি দল টেকনাফের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত অপহরণ, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং এসব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চায়।
জবাবে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, টেকনাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত জনপদ হওয়ায় এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকলেও পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, জনগণের তথ্যভিত্তিক সহযোগিতা ছাড়া অপরাধ দমনকে আরও কার্যকর করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, ইমাম, খতিব, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষিত তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত জনসম্পৃক্ত পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ টেকনাফ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলনের প্রতিনিধি দল জানায়, টেকনাফে শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের সঙ্গে আইনসম্মত ও ইতিবাচক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তারা অপহরণ, মানবপাচার, মাদক ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রতিনিধি দল টেকনাফবাসীর উত্থাপিত দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ জানালে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের জন্য তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই মত প্রকাশ করে যে, প্রশাসন ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা, তথ্যভিত্তিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই টেকনাফকে অপহরণ, মানবপাচার, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ সীমান্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।