Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম

পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, আমিরাতে অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা মামার হাতে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন শিবাঙ্গী জোশী ভূমিকম্প মোকাবিলায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করছে সরকার ঈশ্বরগঞ্জে মোবাইল কোর্টে জব্দকৃত দুই বালুভর্তি ট্রলার ছিনতাই এবার সয়াবিন তেলেও মিললো ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৭৫ জন ইবি তারুণ্যের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যাতিক্রমী উদযাপন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস গবেষণা উপপ্রকল্প মূল্যায়নে আস্থা ফেরাতে ইউজিসির উদ্যোগ
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

টাকার বিনিময়ে ভুয়া রিপোর্ট দেন লালমোহন হাসপাতালের পিয়ন মহসিন

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জুলাই,২০২৬, ০১:০৮ পিএম
টাকার বিনিময়ে ভুয়া রিপোর্ট দেন লালমোহন হাসপাতালের পিয়ন মহসিন

ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট) ও মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের পিয়ন মহসিনের বিরুদ্ধে। তিনি চাকুরী করেন পিয়ন হিসেবে। কিন্তু রোগী ও তাদের স্বজন এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিচয় দেন হাসপাতালের অফিস সহকারী হিসেবে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি আসামিপক্ষের পক্ষে মনমতো ভুয়া বা পরিবর্তিত মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন। এতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী রোগী ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গজারিয়া এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত জব্বারের ছেলে ফারুক প্রতিপক্ষের হামলায় হাত ভেঙে গেলে তিনি লালমোহন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১, তারিখ: ০৮/০৬/২০২৬)। ওই ঘটনায় হাসপাতাল থেকে প্রথমে তাকে সামান্য আঘাত উল্লেখ করে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করলে তাদের আইনজীবী রিপোর্টটিকে ভুয়া বলে দাবি করেন। এরপর তারা পুনরায় অফিস সহকারী মহসিনের কাছে গেলে তিনি পূর্বের রিপোর্ট পরিবর্তন করে একই ঘটনার জন্য ২২/০৬/২০২৬ তারিখে মারাত্মক জখম উল্লেখ করে আরেকটি রিপোর্ট তৈরি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আক্তারের স্ত্রী ইয়াসমিন দা-এর কোপে হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তিনি এ ঘটনায় একটি মামলা করেন (মামলা নং-২৯, তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬)। কিন্তু তার হাতের গভীর ও গুরুতর আঘাত থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল রিপোর্টে সেটিকে সামান্য জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অফিস সহকারী মহসিন ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের বিপক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট ও বানোয়াট মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন।

তাদের আরও অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনা ও পুলিশের মাধ্যমে মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করার কথা থাকলেও পিয়ন মহসিন নিজেই আহত ব্যক্তিদের ফোন করে হাসপাতালে এসে রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলেন। এ কাজে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একজন পিয়ন হয়ে হয়ে তিনি কীভাবে এবং কোন এখতিয়ারে মামলার মতো সংবেদনশীল মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি বা পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার না হন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিয়ন মহসিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের রোগীদের সার্টিফিকেটের কাগজপত্র আমি প্রসেসিং করি। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক সার্টিফিকেট প্রদান করেন। আমি টাকার বিনিময়ে কাউকে কোনো সার্টিফিকেট দিই না।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) মো. আবু মাহমুদ তালহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)