কক্সবাজার প্রতিনিধি
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, পাহাড়ধস ও দুর্ঘটনায় গত সাত দিনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে টেকনাফে ঝড়ো হাওয়ায় চলন্ত একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের ওপর বিশাল রেইনট্রি গাছ ভেঙে পড়লেও চালকসহ সব যাত্রী অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, টেকনাফগামী একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস কানজরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে প্রবল বাতাসে রাস্তার পাশের একটি বিশাল রেইনট্রি গাছ শিকড়সহ উপড়ে গাড়িটির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে মাইক্রোবাসটির ছাদ ও সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেলেও ভেতরে থাকা যাত্রীরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা যৌথভাবে গাছটি অপসারণ করলে প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল চৌধুরী এবং টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মুকুল কুমার নাথ জানান, টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় গাছটি উপড়ে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পর টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বৈরী আবহাওয়ায় অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া এবং ভারী বৃষ্টির সময় মহাসড়কে চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
৭ দিনে ২০ জনের মৃত্যু
অন্যদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, সদর, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে বন্যা ও পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন ঘটনায় জেলায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৩ জন, কক্সবাজার সদরে দুজন, পেকুয়ার টইটংয়ে ঘরধসে এক শিশু, মহেশখালীর সোনাদিয়ায় পানিভর্তি গর্তে পড়ে ২১ মাস বয়সী রুমাইসা খানম, উখিয়ার হলদিয়াপালংয়ে দেয়ালধসে মানিক নামে একজন এবং বৃহস্পতিবার চকরিয়ায় পাহাড়ধসে রোমা আক্তার (১৫) ও তার ভাই মো. তৌসিফ (১০) নিহত হয়েছেন।
পানিবন্দি হাজারো মানুষ
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকার অন্তত ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রামুর অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে, তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, "যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উদ্ধার ও জরুরি সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সহায়তার জন্য ০১৮৭২-৬১৫১৩২ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।"