মো: এনামুল হক, খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সহস্রাধিক পরিবার জলাবদ্ধতা ও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে । রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ ছড়া খালের পানি কিছুটা নেমেছে। এতে জেলা সদরের কিছু নিচু স্থানে জলাবদ্ধতার উন্নতি হলেও বেতছড়ি মার্মাপাড়া, বিচিতলা, লার্মাপাড়া, বটতলায় আংশিক এলাকায় এখন পর্যন্ত জলাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সকাল দশটা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড় ধসের আসঙ্খায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মাটিরাঙ্গায় থেমে থেমে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হজ্ছে। প্লাবিত হওয়া নিম্নাঞ্চলের বাড়ি ঘর থেকে পানি নেমে গেলেও গোমতি নদী,ধলিয়া খাল ও সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর পানি অপরিবর্তীত রয়েছে। উল্লেখ যোগ্য কোন ধরণের পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা জুড়ে ইতিমধ্যে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় শতাধিক পরিবার এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার সর্বরাহ করা হচ্ছে।
এছাড়া দীঘিমালার অবস্থা স্থতিশীলা রয়েছে। মাইনী নদীর পানি কিছুটা কমলেও জলাবদ্ধতা ও প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নামেনি। উপজেলাী কবাখালি, মেরুংসহ কয়েকটিস্থানে সড়ক তলিয়ে থাকায় এখনো বন্ধ যান চলাচল। দীঘিনালা থেকে সাজেক-লংগদু ও বাঘাইছড়ি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
গতকাল বিকেলের পর পানি ঢুকে পড়ায় দীঘিনালা ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে সংযোগ বন্ধ রেখেছে পুরো উপজেলায়।
এদিকে খাগড়াছড়ি আসনের সাংসদ ওয়াদুদ ভুইয়ার নির্দেশে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উত্তর গঞ্জপাড়া দক্ষিণ গঞ্জপাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যা কবলিত মানুষের
মঝে রাদের খারার বিতরন করেছেন জেলা যুবদল সভাপতি মাহবুবুল আলম সবুজ।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জেলা জুড়ে খোলা ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।