নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বর্তমান জুলাই-জুন ভিত্তিক অর্থবছর পরিবর্তন করে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই-জুন ভিত্তিক অর্থবছরের কারণে বছরের শেষ সময়ে, বিশেষ করে বর্ষা, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করার তাড়াহুড়া দেখা যায়। এতে প্রথম ১০ মাসে অল্প কাজ হলেও শেষ দুই মাসে দ্রুত কাজ শেষ করার প্রবণতা তৈরি হয়, যা অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, “প্রথম ১০ মাসে যেখানে প্রায় ৪২ শতাংশ কাজ হয়, সেখানে শেষ সময়ে বাকি কাজ শেষ করতে গিয়ে অপচয় ও লুটপাটের দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে যায়।”
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর মতে, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিও কমবে।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, বাজেট সংসদে পাস হলেও এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর ন্যস্ত থাকে। তাই জনগণের অর্থের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আরও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
তিনি এ বিষয়ে সরকারকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান।
বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থবছর প্রতি বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। ডা. শফিকুর রহমানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এটি পরিবর্তন করে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হবে।