নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসব নথি চাওয়া হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। এ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপপরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার এবং উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লা।
দুদকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিতে নীতিমালা জারি, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম ও জালিয়াতির সুযোগ সৃষ্টি করে দেশের ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ছয় ধরনের তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন (ডিওএস) ও ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট এবং বড় ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনসংক্রান্ত জারি করা সব অনাপত্তিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।
এ ছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নাম, ঠিকানা ও দায়িত্বকাল, ২০২০ সালের বিআরপিডি সার্কুলার-৮ অনুযায়ী শিল্প ও সেবা খাতে দেওয়া প্রণোদনা ঋণের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের তালিকা এবং প্রণোদনার পরিমাণের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
দুদক আরও চেয়েছে এস আলম গ্রুপকে কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা প্রদানের অনুমোদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট নোটশিট, সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের আমলে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত নথি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি-সংক্রান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদনের অনুলিপি।
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট তথ্য ও রেকর্ডপত্র দ্রুত কমিশনে পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে।