চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শিবলি রহমান তামিম সিকদারের উদ্যোগে মোটরসাইকেল শোডাউন, পথসভা ও ব্যাপক গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সহস্রাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে মোটরসাইকেলের বিশাল বহর নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও বাজার প্রদক্ষিণ করেন তিনি। গণসংযোগকালে মাদকমুক্ত, আধুনিক ও উন্নত ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই চেয়ারম্যান প্রার্থী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে সহস্রাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন শুরু করেন শিবলি রহমান তামিম সিকদার। শোডাউনটি চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি। পরে মোটরসাইকেলের বিশাল বহর নিয়ে নিজ ইউনিয়ন এওয়াজপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে প্রথমে তাঁর বাবার কবর জিয়ারত করেন। এরপর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ ও পথসভা শুরু করেন।
গণসংযোগকালে মৃধা বাজার, আজার বাজার ও শশীভূষণ নতুন বাজারসহ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের নানা সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন, জনসেবা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পথসভায় শিবলি রহমান তামিম সিকদার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে তিনি রাজনীতি ও জনসেবায় কাজ করতে চান। দেশপ্রেম, সততা, মানবিকতা ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে এওয়াজপুর ইউনিয়নকে একটি উন্নত ও আদর্শ ইউনিয়নে পরিণত করাই তাঁর লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা নূরুল ইসলাম নয়নের সততা, আদর্শ ও নির্দেশনা অনুসরণ করে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম এওয়াজপুর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ নেব। মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই মাদক ব্যবসা ও মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তরুণদের বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হবে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা অন্যায়-অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন এবং ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার পান, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করব।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তামিম সিকদার বলেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ২৫টি মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কারাবরণ করেছি, ২৪ দিনের রিমান্ডে ছিলাম এবং বারবার কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। নানা প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মধ্যেও আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াইনি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এলাকার মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়েই রাজনীতি করে যাচ্ছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সেই অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধকে কাজে লাগিয়ে জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।’
উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এওয়াজপুর ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন আমার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে। যেসব এলাকায় এখনো চলাচলের অনুপযোগী রাস্তা রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনার চেষ্টা করব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নে কাজ করব। পাশাপাশি কৃষক, শ্রমজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইউনিয়নের অবহেলিত এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যান হওয়া আমার কাছে ক্ষমতা ভোগের বিষয় নয়, বরং এটি মানুষের সেবা করার একটি বড় সুযোগ ও আমানত। ইউনিয়ন পরিষদকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। পরিষদের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, বরং ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। আমার স্বপ্ন, এওয়াজপুর হবে একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, শিক্ষাবান্ধব ও আধুনিক মডেল ইউনিয়ন।’
এ সময় তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এলাকার মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়েই তিনি এওয়াজপুরের উন্নয়নে কাজ করতে চান।
গণসংযোগ ও পথসভায় স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।