নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয়, প্রতিশ্রুতি রাখে এবং তা বাস্তবায়ন করে—এটাই দলটির রাজনৈতিক ইতিহাস।
সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘২১তম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো জাতিকে উন্নত ও সমৃদ্ধ হতে হলে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। আবার কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমেই তার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে জাতির মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুপ্রবেশ ঘটেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় অপসংস্কৃতির চর্চা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানসিকভাবে একটি জাতিকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের সংস্কৃতিতে বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ ঢোকানো হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এসব হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও ক্যান্টিন সংকট এবং শিক্ষার্থীদের মেসজীবনের নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য আসন্ন একনেক সভায় বাজেট অনুমোদনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংকট নিরসনে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানান বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ সাজিদ এবং গুমের শিকার তিন ছাত্রনেতাকে স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিদাতা জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর নাতবৌ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ সাজিদের মা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ, ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্রতিপাদ্যে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ক্যাম্পাস থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি বের হয়। র্যালিটি রায়সাহেব বাজার হয়ে ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। এরপর শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
দিবসের দ্বিতীয় পর্বে বিকেল ৩টায় বিজ্ঞান ভবন প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও রঙ্গভূমির পরিবেশনার পাশাপাশি সংগীতানুষ্ঠান ও পুতুলনাট্য মঞ্চায়নের আয়োজন ছিল।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অফসাইড, কোমল গান্ধার, কিম্ভুত ও স্বরূপ ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরবাউল জেমসের কনসার্টের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শেষ হওয়ার কথা ছিল।