নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোলার মনপুরায় অসহায় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল খালেক সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চৌধুরী বাজারসংলগ্ন একটি বসতঘর থেকে এক টন চাল উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। চাল কেনার কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী বাজারসংলগ্ন ব্যবসায়ী জামালের বসতঘরে এসব চাল পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বস্তায় থাকা চালগুলো ঘরের ভেতরে বাক্সের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
চাল কেনার বিষয়ে ব্যবসায়ী জামাল বলেন, “আমি সেলিম মোল্লার কাছ থেকে ২৭ হাজার টাকা দিয়ে এক টন চাল কিনেছি। তবে চাল কেনার কোনো রসিদ আমার কাছে নেই।”
চালের বস্তাগুলোতে কালো কালি দিয়ে ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, অর্থবছর ২০২৫-২৬’ লেখা রয়েছে। ফলে চালগুলোর বরাদ্দ, প্রকৃত মালিকানা এবং বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুমে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল এসব সরকারি চাল। অভিযোগ রয়েছে, সেলিম মোল্লা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জেলেকার্ড ও চালের স্লিপে কারসাজির মাধ্যমে বরাদ্দের চাল অবৈধভাবে মজুত করেন। পরবর্তী সময়ে মজুত করা সেই চাল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, সেলিম মোল্লার ছোট ভাই ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সামসুদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে কয়েকজন হিন্দু ব্যক্তিকে দিয়ে উদ্ধার হওয়া চাল মন্দিরের বরাদ্দকৃত চাল বলে বক্তব্য দেওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, উদ্ধার হওয়া চালগুলো পূজার জন্য বরাদ্দ চাল বলে তিনি জেনেছেন। তবে বস্তায় মৎস্য অধিদপ্তরের সিলমোহর থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবদুল খালেক সেলিম মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।