কলাপাড়া প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জমি বিক্রির কথা বলে ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া ১০ লাখ টাকা বড় ভাই জাকির হোসেন আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন তার ভাই-বোনেরা। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মহিপুরস্থ কুয়াকাটা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জমি বিক্রির পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইদ্রিস অভিযোগ করেন, জমি বিক্রির প্রক্রিয়ায় তার বড় ভাই জাকির হোসেন ক্রেতার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে ওই টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে এবং অন্যান্য ভাই-বোনকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ইদ্রিস জানান, তাদের মালিকানাধীন ৪০ শতাংশ জমি ৬০ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রির বিষয়ে শাহ মোঃ মাহমুদুল হাসান ফেরদাউসের সঙ্গে আলোচনা হয়। জমিটির পরিচয়—জে.এল. নং-৩৪, লতাচাপলী মৌজা, এসএ খতিয়ান নং-২১৫২, এসএ দাগ নং-৬২৬৩; বিএস জে.এল. নং-৫৯, দক্ষিণ লতাচাপলী মৌজা, বিএস খতিয়ান নং-১৫৫৬, বিএস দাগ নং-৭৩, ৭৪ ও ৭৫।
তিনি বলেন, জমির বায়না বাবদ তিনি ও অন্যান্য ভাই-বোন মিলে ক্রেতার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেন। অন্যদিকে জমি রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করার কথা বলে বড় ভাই জাকির হোসেন ক্রেতার কাছ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে জমি বিক্রির প্রক্রিয়ায় ১২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইদ্রিসের দাবি, মামলার কাগজপত্রেও ১০ লাখ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে এবং ২ লাখ টাকা নগদে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বায়না দলিল সম্পাদনের কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার অভিযোগ, জাকির হোসেন ১০ লাখ টাকা নেওয়ার পরও জমি রেজিস্ট্রির কোনো ব্যবস্থা করেননি। পরে জমির ক্রেতা শাহ মোঃ মাহমুদুল হাসান ফেরদাউস ২ লাখ টাকা এবং জাকির হোসেনের নেওয়া ১০ লাখ টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
ইদ্রিস বলেন, “২ লাখ টাকা বায়না বাবদ গ্রহণের বিষয়টি আমরা স্বীকার করছি। তবে জাকির হোসেন যে ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন, সেই টাকা ও তার হিসাব আমাদের জানা নেই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্রেতার করা মামলার পর জাকির হোসেন তাকে ও তার অন্যান্য ভাই-বোনের বিরুদ্ধে ৮ লাখ টাকার আরেকটি মামলা করেন। তাদের দাবি, ওই মামলাটি মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা জাকির হোসেনের কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি এবং কোনো ধরনের প্রতারণার সঙ্গেও জড়িত নন বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জমি বিক্রির পুরো লেনদেনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। বিশেষ করে বায়না দলিল, ব্যাংক লেনদেন এবং নগদ টাকা দেওয়ার বিষয়গুলো যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি করেন তারা।
এ ছাড়া তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলারও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। তদন্তে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা।