কুবি প্রতিনিধি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'পূজা উদযাপন পরিষদ'র উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩ তম আবির্ভাব তিথি ও জন্মাষ্টমী মহোৎসব পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ) বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে বিশ্বশান্তি ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় হরিনাম সংকীর্তনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানমালায় ছিল, সকাল সাড়ে দশটায় মঙ্গল শোভাযাত্রা , এগারোটায় বৃক্ষরোপন, বিকাল সাড়ে চারটায় কীর্তন, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সন্ধ্যা-আরতি, সাড়ে সাতটায় আলোচনা, সাড় আটটার দিকে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাভিষেক করা হয়। এবং পরিশেষে রাত নয়টার শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী, ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রদীপ দেবনাথসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষার্থীরা।
এনিয়ে পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আপন বসাক বলেন, " প্রতি বছর আমরা অত্যন্ত আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জন্মাষ্টমী উদযাপন করি। এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করার পাশাপাশি তাঁর জীবন ও আদর্শকে সবার মাঝে তুলে ধরা। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের সত্য, ন্যায়, ভালোবাসা, মানবতা ও কর্তব্যের শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে তাঁর এই শিক্ষাগুলো আমাদের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও আমাদের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানুক এবং তা নিজেদের জীবনে ধারণ করুক।"
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সজীব বিশ্বাস বলেন, " জন্মাষ্টমী আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও ভক্তির একটি দিন। এই দিনে আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উদযাপন করি এবং তাঁর জীবন ও দর্শন থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করি। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের শিখিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে এবং নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে।
আমাদের আজকের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব পালন করা নয়; বরং আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সকলের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া।"
তিনি আরও বলেন, " আমরা সবসময় বিশ্বাস করি, উৎসব মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার জন্য নয়, বরং মানুষকে আরও কাছে নিয়ে আসার একটি মাধ্যম। তাই সকলের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় আমরা জন্মাষ্টমীর এই আয়োজনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলতে চাই।"