নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে—এমন খবরে পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে। শেষ মুহূর্তে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক ভূমিকা, আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে পদ নিশ্চিতের চেষ্টা করছেন তারা।
অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছেন ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এবারের কমিটিতেও অভিজ্ঞ ও নবীনদের সমন্বয় থাকতে পারে। নতুন কয়েকজন মুখের পাশাপাশি কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ে আগে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন।
নতুন কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক—এই তিন শীর্ষ পদ ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। পদপ্রত্যাশীদের অনেকে ক্যাম্পাসে মিছিল, পদযাত্রা ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতা। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। নেতৃত্ব নির্বাচনে আন্দোলনে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা
ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদগুলোতে আলোচনায় রয়েছেন সবশেষ কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, খোরশেদ আলম সোহেল, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত, এজাজুল কবির রুয়েল, এইচএম আবু জাফর, আবিদুল ইসলাম খান আবিদ, শেখ তানভীর বারী হামিম, সালেহ মো. আদনান, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, ফারুক হোসেন, মমিনুল ইসলাম জিসান, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, তরিকুল ইসলাম তারিক, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, রাজু আহমেদ ও মিনহাজ আহমেদ প্রিন্সসহ অনেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নামও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, মাসুদুর রহমান মাসুদ, তারেক হাসান মামুন, নাছির উদ্দীন শাওন ও জাহিদ হাসান শাকিলের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আলোচনায় থাকা এসব নেতার মধ্য থেকেই কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ হতে পারে। প্রথম ধাপে ‘সুপার ফাইভ’ বা ‘সুপার সেভেন’ ধরনের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে এই নেতৃত্বের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আমানকে ঘিরে আলোচনা
আমান উল্লাহ আমানের সমর্থকদের দাবি, মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের ত্যাগের বিবেচনায় তার নাম শীর্ষ নেতৃত্বের দৌড়ে জোরালোভাবে রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে তার সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকার কথাও তুলে ধরছেন তার সমর্থকরা।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান আবিদও আলোচনায় রয়েছেন। ক্যাম্পাস রাজনীতিতে পরিচিত মুখ আবিদ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী হয়ে ৫ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তার সমর্থকদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন আবিদ।
আবিদের প্যানেলে জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমের নামও রয়েছে আলোচনায়। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে তিনি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল শাখা ছাত্রদলের এই আহ্বায়কের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
সভাপতি পদপ্রত্যাশী কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত বলেন, ছাত্ররাজনীতিকে শিক্ষার্থীবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য করতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তায় কাজ করতে হবে।
মমিনুল ইসলাম জিসান বলেন, সংগঠনের নেতাকর্মীরা নতুন কমিটির জন্য অপেক্ষা করছেন। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে ছাত্রদল ভূমিকা রাখবে।
রাজু আহমেদ বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে সারা দেশের ছাত্রদল অপেক্ষা করছে। শিগগিরই সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি উপহার দেবেন বলে তারা আশা করছেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের
পদপ্রত্যাশীদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—নতুন কমিটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানই দেবেন। তিনি যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, সেটি মেনে নিয়ে সবাই সংগঠনের জন্য কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির দায়িত্ব পান বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। একই সময়ে আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া সিনিয়র সহসভাপতি, শ্যামল মালুম সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমান সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।
পরে ২০২৪ সালের ১৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।