সিনিয়র রিপোর্টার, সজীব রাজভর বিপিন
আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এ কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষায় পরিবর্তন আনার যে লক্ষ্য ও দায়িত্ব দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, স্থানীয় কমিউনিটিকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষাঙ্গনে কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিলেট বিভাগে এরই মধ্যে এ ধরনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাকি ছয়টি বিভাগেও পর্যায়ক্রমে কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, ক্রীড়া ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—কোনো শিশু যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগসহ বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু নতুন ভবন নির্মাণ নয়; প্রতিটি বিদ্যালয়কে আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে নিজ নিজ এলাকার ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী ছয় মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিশ্চিত করেই বিদ্যালয় পর্যায়ে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষার পরবর্তী কারিকুলামে ইংরেজির লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে স্পিকিং টেস্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রম আধুনিক করতে একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। এর আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইউনিক আইডি থাকবে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে পৃথক ওয়াশ ব্লকের পরিবর্তে স্কুল ভবনের ভেতরেই প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকলেও সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, মানুষ মসজিদকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করায় সেখানে সাধারণত চুরির ঘটনা কম ঘটে। কিন্তু অনেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করেন না। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সবার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনসের পরিচালকসহ ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার পিটিআই সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা।