নিজস্ব প্রতিবেদক
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেফতার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সে দেশের সরকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সাথে বেনজীর আহমেদের মামলার নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এসেছে ইন্টারপোলের স্থানীয় সমন্বয় সংস্থা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) একটি প্রতিনিধি দল।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) চিঠি পাঠানোর বিষয়টি দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিন দুপুরে এনসিবির দুই সদস্যের একটি টিম দুদক কার্যালয়ে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন।
এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাবেক এই আইজিপির গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং এনসিবি আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয় যে, বেনজীর আহমেদকে ইউএই পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আরও জানান, আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন পাঠাতে হবে। নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জোর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
যেভাবে ধরা পড়লেন বেনজীর
দুদক ও পুলিশ সূত্র জানায়, সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি), ঢাকা ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করার পর ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়।
সেই নোটিশের ভিত্তিতেই গত ১২ জুন লন্ডন থেকে ট্রানজিট নেওয়ার জন্য দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামলে সেখানকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন (AI) ক্যামেরায় বেনজীরের অবস্থান শনাক্ত হয়। এআই ক্যামেরা সংকেত দেওয়ার সাথে সাথেই দুবাই এয়ারপোর্ট পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তাকে পাসপোর্ট জালিয়াতি করে দেশটিতে প্রবেশ করার দায়ে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক আগেই গোপনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বেনজীর আহমেদ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত ও মামলা চলমান রয়েছে।