কার্যপ্রণালী বিধি মানার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ছবি:
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ও নিয়ম সুনির্দিষ্টভাবে অনুসরণ করে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা নয়। এখানে কথা বলতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনেই চলতে হবে।”
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে দুই সংসদ সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার প্রেক্ষিতে স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে এই নির্দেশনা দেন। এর আগে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এবং রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন।
সংসদ পরিচালনার আইনি কাঠামোর কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, “সংসদ চলে রুলস অব প্রসিডিউর ও সংবিধানের ওপর ভিত্তি করে। এখানে ৩৫০ জন সদস্যই সমান পারদর্শী এবং সবারই বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আছে। তবে দেশের সমস্যা অন্তহীন হলেও সংসদকে নির্দিষ্ট আইন-কানুনের মধ্য দিয়েই চালাতে হয়।”
বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার সঠিক সময় ও নিয়ম ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার নির্দিষ্ট সময় হলো প্রশ্নকাল শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই। বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাধারণত পয়েন্ট অব অর্ডার দেওয়া হয় না। কারণ এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন এবং এখানে দীর্ঘ সময় ধরে বাজেট আলোচনা করতে হয়। ফলে যখন-তখন ইচ্ছা অনুযায়ী দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে দেওয়া সংসদে চলে না।”
অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমানের তোলা একটি প্রসঙ্গের জবাবে স্পিকার বলেন, “উনি দেখেছেন আমি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছি, যা ওনার কাছে সংসদীয় রীতির পরিপন্থী মনে হয়েছে এবং এ নিয়ে তিনি পয়েন্ট অব অর্ডার তুলেছেন। আমি আপনার সেন্টিমেন্টের প্রশংসা করি। আপনি শিক্ষক এবং বেতন না পাওয়া পৌর কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলেছেন। কিন্তু সবকিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে।”
সংসদ সদস্যদের নিয়ম অনুসরণের তাগিদ দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “সংসদ মুখোমুখি চালানো যায় না। কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে হলে আগে নোটিশ দিতে হয়। আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দিতেন, তবে আমরা হয়তো বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারতাম। সুতরাং, ভবিষ্যতে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদের কাছে সবিনয় নিবেদন রইলো।”
পয়েন্ট অব অর্ডার কেবল চলমান বা তাত্ক্ষণিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই হওয়া উচিত উল্লেখ করে সংসদীয় রীতিনীতি ও মর্যাদা বজায় রাখা প্রত্যেক সংসদ সদস্যের পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করিয়ে দেন স্পিকার।