নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় শিক্ষা গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
সোমবার (৩ আগস্ট) ইউজিসি কার্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার ফর সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড মাল্টিকালচারাল অ্যাফেয়ার্স জুলিয়ান হিল-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকে অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধি দল জানায়, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তারা বলেন, বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা গেলে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম খরচে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিল্পখাতের ঘনিষ্ঠ ও কার্যকর অংশীদারিত্ব রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। এই মডেল বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে তারা মত দেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা বর্তমান সরকার ও ইউজিসির অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস, স্টাডি সেন্টার এবং অন্যান্য একাডেমিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগকে ইউজিসি স্বাগত জানায়।
তিনি বলেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করলে উচ্চশিক্ষায় নতুন জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী শিক্ষা পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সংযোজন ঘটবে। বিশেষ করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো চালু হয়নি—এমন আধুনিক ও উদীয়মান বিষয়ে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপকৃত হবে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার চালুর ক্ষেত্রে মূল ক্যাম্পাসের সমমানের শিক্ষা, পাঠ্যক্রম, গবেষণা ও একাডেমিক মান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক মূল ক্যাম্পাস থেকে নিয়োগের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
জবাবে অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, অস্ট্রেলিয়ার অনেক খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফলভাবে ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে এবং সব ক্ষেত্রেই মূল ক্যাম্পাসের সমমানের শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশেও একই মান বজায় রাখা হবে বলে তারা আশ্বাস দেন।
বৈঠকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, একাডেমিক বিনিময় এবং সক্ষমতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুই পক্ষ একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মোছা. জেসমিন পারভীনসহ ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।