বিনোদন ডেস্ক
‘মির্জাপুর’ সিরিজে জ়রিনা চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন বাঙালি অভিনেত্রী অনংশা বিশ্বাস। তবে এই চরিত্রই তাঁকে বাস্তব জীবনে নানা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সিরিজের প্রথম সিজন মুক্তির পর তাঁকে একাধিক অশালীন প্রস্তাব ও আপত্তিকর বার্তা দেওয়া হয়।
সিরিজে জ়রিনা এমন একটি ধূসর চরিত্র, যে নিজের যৌন আবেদনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক জগতে এগিয়ে যেতে চায়। চরিত্রটি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার পর অনেকে বাস্তব জীবনেও অনংশাকে জ়রিনার মতো ভেবে নিতে শুরু করেন।
অনংশা বলেন, “বিষয়টা আমাকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছিল। মনে হয়েছিল, আমার কাজই আমার সরস্বতী। সম্পূর্ণ নিষ্ঠা দিয়ে কাজটা করেছি। তাহলে মানুষ এ ধরনের কথা কেন বলছে?”
অভিনেত্রী স্পষ্ট করে জানান, বাস্তব জীবনে তিনি জ়রিনার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর কথায়, “মানুষ ভাবে জ়রিনা যেমন, আমিও নিশ্চয়ই তেমন। কিন্তু বাস্তবে আমি জ়রিনার মতো একেবারেই নই। আমি শিক্ষিত মেয়ে। বাংলার মেয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যজিৎ রায়ের মাটিতে আমার বেড়ে ওঠা।”
অশালীন প্রস্তাবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অনংশা বলেন, “লোকে বলে, ‘আপনি এক রাতের জন্য কত নেবেন? আমাদের সঙ্গে মরিশাস চলুন দুদিনের জন্য, একটা সপ্তাহান্ত অন্তত কাটিয়ে আসি।’”
তিনি জানান, এখনো তাঁর ইনবক্স এ ধরনের প্রস্তাবে ভরা। সাধারণত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না তিনি। তবে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন।
তবে জ়রিনা চরিত্রের সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলার বিষয়টিকে এক অর্থে নিজের অভিনয়ের প্রশংসা হিসেবেও দেখেন অনংশা। তাঁর মতে, চরিত্রটি এতটাই বিশ্বাসযোগ্যভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন যে দর্শকের একাংশ তাঁকে বাস্তব জীবনেও জ়রিনার মতো ভাবতে শুরু করেছেন।
বাস্তবে অবশ্য তিনি শান্ত স্বভাবের এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই থাকতে পছন্দ করেন। পার্টি কিংবা মদ্যপান থেকেও দূরে থাকেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।