রবিউল ইসলাম রিদয়, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে সুতিয়া নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ছয় দশকের পুরোনো সুতিয়া ব্রিজটির বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ভাঙন। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুর পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। মাঝের অংশেও তৈরি হয়েছে ভাঙন। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।
১৯৬৭-৬৮ সালে নির্মিত সুতিয়া ব্রিজটি ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের পাশাপাশি প্রতিদিন ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন সেতুটি ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সেতুটির বিভিন্ন অংশ নাজুক হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর বিভিন্ন জায়গায় কংক্রিটের পলেস্তারা খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে আছে। মাঝামাঝি অংশেও ভাঙনের চিহ্ন রয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কেঁপে ওঠায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারী যানবাহন পার হওয়ার সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটির অবস্থা এমন। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সেতুটি ব্যবহার করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, সুতিয়া ব্রিজটি শুধু একটি পারাপারের মাধ্যম নয়, আশপাশের এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেতুটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কয়েকটি এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। তাই দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জরুরি ভিত্তিতে সেতুটির সংস্কার প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য ৫৯ বছরের পুরোনো সেতুটির স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা হোক। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসনাত জাহান খান বলেন, “সেতুটির বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আপাতত ব্রিজটির সংস্কারের জন্য যা প্রয়োজন, তা আমরা করে দেব।”
উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্যও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।