Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম

ভারতে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ১৪ শিক্ষার্থীর লালমোহনে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল! কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু ‘মনপুরার ইউএনওর অনৈতিক লেনদেনে আ. লীগ প্রীতি: আদালত অমান্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ’ সিলেটের ভারপ্রাপ্ত ডিসি পিংকি সাহা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ তারকা জিয়ানকার্লো এস্পোসিতো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী এজেন্টদের মাধ্যমে ভিসা ফি বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

অফিসে হয়রানির অভিযোগ

লালমোহনে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল!

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ২২ জুন,২০২৬, ১১:১৬ পিএম
আপডেট : সোমবার, ২২ জুন,২০২৬, ১১:২০ পিএম
লালমোহনে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল!

ভোলার লালমোহনে পল্লী বিদ্যুৎ এর ভৌতিক বিল, মিটারে কারসাজি, ঘুষ এবং অনৈতিক দাবির কারণে  প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা। একেক জনের একেক রকম সমস্যা, কারো অতিরিক্ত ইউনিটে বিদ্যুৎ বিল বেশি, কারো লাইন কাটার প্রায় ৮ বছর পর ভুতুরে বিল আসা, আবার কেউ বিদ্যুতের টাকা জমা দেওয়ার পরের মাসে যোগ হয় আগের মাসের বিল, মিটারের জন্য আবেদন করে দালাল বা ঘুষ না দিলে মিলছে না মিটার। এছাড়া লোডশেডিং তো রয়েছেন নিত্য নৈমিত্য।  


প্রতি মাসেই অনেক গ্রাহকের ভুতুড়ে বিল আসে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দেখা যায় গ্রাহকরা বিলের কাগজ সঙ্গে নিয়ে এদিক ওদিক দৌড়াচ্ছেন, কেউ ক্যাশ কাউন্টারে, কেউ অভিযোগ ডেক্সে, কেউ বিদ্যুৎ ইউনিটের সংশোধন বিলিং সহকারীর কাছে, সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা।  মাসের বিল পাওয়ার পর সমস্যা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ করার জন্য আসেন অনেকেই। কিন্তু অফিসের লোকজন গ্রাহকের কথা না শুনে উল্টোপাল্টা কথা বলেন। বিশেষ করে কয়েকজন নারী স্টাফের আচরণ খুবই খারাপ। তাদের কারণে কারও বিল জমা দেয়ার নির্দিষ্ট তারিখ শেষ হয়ে গেলে গুনতে হয় জরিমানা। 

লালমোহন পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, আমার জুন মাসের বিল ইস্যুর তারিখ ০৪ জুন ২০২৬। বিলে দেখানো হয়েছে বর্তমান মিটার ৭৯২৫ কিলোওয়াট। কিন্তু আমি ২১ জুন মিটার চেক করে দেখি ৭৮৯৪ কিলোওয়াট। তাহলে আমার প্রশ্ন মিটারের চেয়ে বিলে কিলোওয়াট বেশি হলো কিভাবে। এখানে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন মিটার না দেখে ভুয়া বিল তৈরী করেছে। 

আমি উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে তানজুমা নামের বিলিং সহকারী কে বললে তিনি বিল দেখে বলেন ৩১ ইউনিট বেশি লিখেছে এতে আপনার ভালো হয়েছে। কারণ এখন বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেছে। আপনি আগের দামে পেয়েছেন। এতে আপনি লাভবান হবেন। বিষয়টি নিয়ে ওনার সাথে তর্ক জড়ালে ওনি বিল রেখে দিয়ে বলেন আপনার সাথে অফিসে থেকে পরে যোগাযোগ করা হবে।  
 পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ফাতেমা বেগম ২০১৮ সালে বিদ্যুতের মিটার বন্ধ করে অন্য এলাকায় চলে যান। হঠাৎ দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর এই বছরের জুন মাসে তার নামে ৮০ হাজার টাকার বিল আসে। তার দাবী মিটার বন্ধ, বিল আসলো কোথা থেকে। এতে বুঝা যায় বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের দায়িত্ব কতটা দায়হীন ভাবে পালন করছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, অস্বাভাবিক বিল আসার পর আমরা অফিসে  আসলে কর্মকর্তা কর্মচারীরা অস্বাভাবিক আচরণ করে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছেন, একবার ২য় তলায় ক্যাশ কাউন্টার থেকে বলা হয় নিচ তলায় যান, নিচ তলায়  আসলে বলে ২য় তালায় কম্পিউটার অপারেটরের রুমে যান। সেখানে গেলে আবার বলেন বিদ্যুৎ রিডিং লাগবে মিটার থেকে বর্তমান রিডিং নিয়ে আসেন, মিটারের ভিডিও ফুটেজ দেখানোর পর বলে বিল কমানোর জন্য আবেদন করতে হবে আগে আবেদন করেন। এভাবে কয়েক টেবিলে ঘুরতে হয় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের। বিদ্যুৎ বিলের এমন হয়রানি বন্ধ চান ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

চরভুতা ইউনিয়নের  হারুন আর রশিদ নামে একজন বলেন, প্রতি মাসে একই নিয়মে বিল আসলেও হঠাৎ বিল আসে তিন গুন বেশি এটা নিয়ে বিদুৎ অফিসে গিয়ে ২য় তলা, নিচ তলা  এবং ৩য় তলায়  অনেক দৌড়ানির পর বলে আগে যে বিল আসছে তা জমা করুন। তারপর ঠিক করা হবে।  তবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীরা গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে মোটেও আন্তারিক নয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিশেষ করে নারী স্টাফদের আচরণ খুবই খারাপ। 

ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন গ্রাহকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে এই অফিসের লোকজন ইচ্ছা করেই ভুল করেন। তাই এই অফিসে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দেয়া উচিত।
এ ব্যাপারে লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাহমুদুল হাসান  বলেন, অনেক সময় ভুলবশত/অসাবধানতা বশত মিটারের চেয়ে বিলে রিডিং বেশি আসতে পারে। গ্রাহক অভিযোগ দিলে আমরা সাথে সাথে ঠিক করে দেই। গ্রাহক ফাতেমা বেগমের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানির কোন সুযোগ নেই। অফিসের কোন লোক গ্রাহকের সাথে খারাপ আচরণ বা সমস্যা করলে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)