নিজস্ব প্রতিবেদক
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ করেছে দলটি। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইজির আখড়াবাড়ির প্রবেশগেটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ ও তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে এনসিপি। দলটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতারা জানান, মামলা করতে রোববার রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত কুমারখালী থানায় অপেক্ষা করেন তাঁরা। তবে শেষ পর্যন্ত মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
এনসিপির নেতাদের দাবি, মামলা নেওয়ার বিষয়ে তাঁরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। একপর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা থানার আশপাশে অবস্থান নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। পরে রাত ১টার দিকে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁরা কুষ্টিয়া শহরে ফিরে যান।
তবে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ লিখিতভাবে দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপির নেতা-কর্মীরা থানায় অবরুদ্ধ ছিলেন না বলেও জানান তিনি।
ওসি বলেন, নিরাপত্তার শঙ্কার কথা জানানো হলে রাত ১টার পর পুলিশি প্রটোকলে তাঁদের কুষ্টিয়া শহর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।
এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে পুলিশ বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেছে দলটি। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ কর্মসূচিতে বাধা দেয় বলে দলটির নেতারা জানান।
হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রাব্বি। তিনি বলেন, ছাত্রদল মব রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। ঘটনায় ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।