নিজস্ব প্রতিবেদক
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, নীতিমালা প্রণয়ন করে মানুষকে ভালো করা সম্ভব নয়; তবে আইনের আওতায় আনা গেলেও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নৈতিকতার বিষয়টি সাংবাদিকদের সবসময় মাথায় রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সকালে ভোলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা করে হয়তো আইনের মধ্যে আনতে পারব। তবে নৈতিকভাবে মাথায় রাখতে হবে-একটি হাফ-ট্রুথ (আংশিক সত্য) সংবাদের জন্য যাতে কারো ক্ষতি না হয়। আবার কারো বেশী প্রশংসাও যাতে না হয়। গণতন্ত্রে সংবাদ মাধ্যমের ব্যাপক দায়িত্ব রয়েছে।’
বর্তমানে গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে পার্থ বলেন, ‘বর্তমানে মিডিয়া একদম ফ্রি। আপনারা (সাংবাদিকরা) আপনাদের মতো করে কাজ করবেন। আমি মনে করি মিডিয়া গণতন্ত্রের একটা স্তম্ভ, আমাদের কাজগুলো ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ হচ্ছে সেগুলো আপনারা দেখবেন। একই সময়ে আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে আপনাদের কলমের লিখনিতে যাতে কারো জীবন, ক্যারিয়ার, মান-সম্মান নষ্ট না হয়, এটা নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘আমি সংবাদ মাধ্যমের ওপর কখনো হস্তক্ষেপ করি নাই। আমি বিশ্বাস করি ২০টি টিভি চ্যানেল ও হাজার হাজার পত্রিকা আপনার পক্ষে থাকলেও আল্লাহ যদি না চায় আপনি থাকতে পারবেন না। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ এই ফ্যাসিস্ট রেজিম। গত দুই বছর আগে আমরা দেখেছি যে, সব আপনার পক্ষ থাকলেও যখন সময় থাকবে না তখন কেউ আপনার পক্ষে থাকবে না। আল্লাহ যখন চাইবে না তখন মানুষের মনের মধ্যেই আপনার প্রতি ঘৃণা দিয়ে দিবে।’
নিজের অবস্থান তুলে ধরে পার্থ বলেন, ‘আমার কখনো আগ্রহ ছিল না যে, আমার পক্ষে ১০ জন সাংবাদিক লিখবে বা না লিখলে আমি ফোন করে তাদের চাকরি নষ্ট করব। আমরা এই চর্চা থেকে বের হতে চাই।’
সাইবার বুলিংয়ের প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি বর্তমানে একটি বড় ইস্যু। এ ধরনের ঘটনার কারণে অনলাইনে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা কমে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, মানুষ কোনো সংবাদ দেখলেই সেটিকে ‘ফেইক নিউজ’ বা ভুয়া সংবাদ মনে করছে। এমনকি সঠিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও পাঠকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।
বর্তমান সময় ও প্রজন্মের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে পার্থ বলেন, ‘আজকে পরিস্থিতি আলাদা, জেনারেশন আলাদা এবং মিডিয়াসহ সব কিছুই আলাদা। আপনারা যখন কলম নিবেন, লিখবেন আমাদের সমালোচনা করবেন। আমাদের কাজগুলো কোথায় কোথায় ঠিকমতো হচ্ছে সেই জিনিসগুলো দেখবেন। আমরা যেই বরাদ্দগুলো দিচ্ছি, যেই কাজগুলো করার চেষ্টা করছি এগুলো কি সততার সঙ্গে হচ্ছে কি না সেগুলোর ব্যাপারে আমাকে জানাবেন। আমাদের নিয়ে সংবাদ করবেন আমাদের সাহায্য করার জন্য, যাতে করে আমরা সঠিকভাবে কাজটা করতে পারি। খেয়াল রাখতে হবে ওই সংবাদের মধ্যে যাতে দূষিত কিছু না থাকে। আপনি আমাকে পছন্দ করেন না বা রাগ ও ক্ষোভ থেকে যাতে সংবাদ না হয়।’
ভোলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন লিটনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম, জেলা বিজেপির সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর জেলার পলিটিক্যাল সেক্রেটারি জিয়া উল মোরশেদ চৌধুরী, দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক মু. শওকাত হোসেন এবং প্রবীণ সাংবাদিক এম এ তাহের।