Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
Desherdak || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম

‘ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন’ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী রাতের আঁধারে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে গিয়ে সরঞ্জাম ফেলে পালালো চক্র মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: জুবাইদা রহমান জ্বালানি সংকট কাটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন প্রাইভেট পড়ালে এমপিও বন্ধ: ফারজানা শারমীন পুতুল প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা স্পষ্ট: ফখরুল জুলাই যোদ্ধাদের অটোরিকশা-রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী ‘হাসিনা কার্ড’ খেলা বন্ধ করতে ভারতের প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

তিন শতাধিক অপরাধীর কবজায় দেশের সাইবার জগৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : শনিবার, ৮ আগস্ট,২০২৬, ১২:৪১ পিএম
তিন শতাধিক অপরাধীর কবজায় দেশের সাইবার জগৎ

দেশে ক্রমেই বাড়ছে সাইবার অপরাধ। গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্রের শীর্ষ পর্যায়ের তিন শতাধিক সদস্যকে এ ধরনের অপরাধে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অনেকেই অর্থপাচার, অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত।

সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছবি, নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ খুলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কনটেন্ট ছড়ানোর ঘটনা সামনে এসেছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ভুয়া চিঠিও পাঠানো হয়েছে। এসব চিঠিতে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, এ চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিল, স্বাক্ষর এবং সরকারি লেটারহেড জাল করে প্রতারণা চালাচ্ছে। তাদের অনেকে বিদেশি নাগরিক এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে। এ ধরনের কোনো তথ্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, মোবাইল আর্থিক সেবা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এর মধ্যে অনলাইন প্রতারণা, ফিশিং, ওয়েবসাইট হ্যাকিং, তথ্য চুরি, হুমকি, মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ছড়ানোর মতো অপরাধ রয়েছে।

ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল আর্থিক সেবাকে কেন্দ্র করে অপরাধীদের নতুন কৌশল সাধারণ মানুষকে ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রীদের নাম, পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে মন্ত্রীদের অনুমোদনহীন বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে প্রচারিত কোনো তথ্য আমলে না নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অনলাইন প্রতারণায় বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইবার অপরাধীদের একটি বড় অংশ অনলাইন প্রতারণায় সক্রিয়। জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোর সঙ্গে যুক্ত কিছু মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হচ্ছে। এর একটি অংশ আন্তর্জাতিক চক্রের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদর দপ্তরের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাদের তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে তথ্য সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) আলী হোসেন ফকির বলেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া, ফিশিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মতো অপরাধ বর্তমানে বড় সামাজিক সংকট। এসব অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিষয়ে সক্ষমতা অর্জন জরুরি।

মন্ত্রীদের সিল-সই জাল, গ্রেপ্তার ৫

ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ সূত্র জানায়, মন্ত্রীদের সিল-সই জাল করা একটি চক্রের পাঁচ সদস্য—ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনশী, মীর তৌহিদুল ইসলাম ও মো. বকুল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাদের কাছ থেকে সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত আটটি মোবাইল ফোন, দুটি কম্পিউটার ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে তৈরি ৪১টি জাল সিল এবং বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রণালয়ের সচিবদের অফিসিয়াল লেটারহেডের ছয়টি বান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধীচক্রের সদস্য। তারা মন্ত্রীদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।

নারী ও তরুণীরা বড় ভুক্তভোগী

পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, সাইবার অপরাধের বড় একটি অংশের শিকার হচ্ছেন নারী। বিশেষ করে তরুণী ও কিশোরীরা অপরাধীদের অন্যতম প্রধান টার্গেট। সামাজিক কারণে বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন না বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পুলিশের গত পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, পর্নোগ্রাফি এবং ডিজিটাল অপরাধসংক্রান্ত আইনে কয়েক হাজার মামলা হয়েছে। তবে পৃথক ও পর্যাপ্ত সাইবার অপরাধ ইউনিটের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব মামলার দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তি এখনো চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে বর্তমানে শত শত মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগের তদন্ত চলছে। ফিশিং, ভুয়া অনলাইন কেনাবেচা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা, বিনিয়োগ প্রতারণা, লটারি বা পুরস্কারের নামে প্রতারণা এবং রোমান্স স্ক্যামের মতো অপরাধও বাড়ছে।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন প্রতারণাই সাইবার অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগের সবচেয়ে বড় অংশ। এর পাশাপাশি অনলাইন হয়রানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের অভিযোগও রয়েছে।

পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ

ডিজিটাল অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা মোকাবিলায় গত ১১ মে পৃথক ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে সরকার। বাংলাদেশ পুলিশ এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

টাঙ্গাইলের মাওলানা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. উমর ফারুক বলেন, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানো, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং মামলার দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)