প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
ছবি:
ভারত সফরকালে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদস্বরূপ তিনি দেশে ফিরে আসেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি সেখানে ব্যক্তিগত পরিচয়ে যাইনি, সরকারের প্রতিনিধি হিসেবেই গিয়েছিলাম। ফলে আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, সেটিকে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধির প্রতি আচরণের বিষয়।”
ঘটনার পর দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, এটি ছিল তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের অংশ। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কারও পক্ষ থেকে কোনো চাপ বা নির্দেশ ছিল না।
বাংলাদেশের হাইকমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সে বিষয়ে হাইকমিশনারকে দায়মুক্তি দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের কোনো ব্যর্থতা ছিল না।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বিশ্বের যে কোনো দেশে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করা হলে সরকার একই নীতি অনুসরণ করবে। “এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে সরকার সবার ক্ষেত্রেই একই অবস্থান নেবে,” বলেন তিনি।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের অবনতি হবে বলে মনে করেন না ডা. জাহেদ। তার ভাষায়, “দুই দেশের সম্পর্ক বহুস্তরীয় এবং দীর্ঘদিনের। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা সেই সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আমি মনে করি না।”
বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বন্ধু পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বাস্তবতা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নিজের পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ও পরিষ্কার করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, সফরের সময় তার কাছে কোনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল না। সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য বিশেষ পাসপোর্ট থাকায় আলাদা কূটনৈতিক পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়নি।
ভারত সফরকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনার মধ্যে ডা. জাহেদের এই বক্তব্য ঘটনাটির বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।