প্রফেসর ড.প্রিয় ব্রত পাল, অর্থনীতিবিদ
প্রফেসর ড.প্রিয় ব্রত পাল।
ছবি:
৩০ শে জুন ২০২৬ -২০২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট কন্ঠ ভোটে পাশ হয়েছে। যা পয়লা জুলাই থেকে কার্যকর হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৪-২৫ সালের ৩.৪৯ শতাংশ এর তুলনায় ২০২৫-২৬ সালের ৪.১৪ শতাংশ উন্নীত হয়েছে। গড় মূল্য স্ফীতি উল্লেখিত সময়ে ১০.০৩ থেকে ৮.৬৩ এ কমেছে। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ২৫জুন ২০২৫ এর ২২.৬৫ বািলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৫জুন ২০২৬ তরিখে ৩১.৫৩ বািলিয়ন ডলার হয়েছে ।
বিল পরিশোধের সহজ মাধ্যম হিসেবে বাংলার কিউ আর পলিচালিত হবে অর্থাৎ জনগণকে ডিজিটাল ব্যাংকের অভ্যাসে পরিণত করা হবে। ফলে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
প্রবাসী আয় ও রিজার্ভের স্বস্তি ফিরলেও রপ্তানি আয়ের দুশ্চিন্তা কমেনি। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে গৃহীত পদ্ধতি গুলো গুরুত্ব সহকারে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। অতীতের সরকারের মতো অপচয় করা যাবে না। শেয়ার বাজারের অনৈতিকতা দূর করতে হবে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দমনের বিকল্প নেই। পুরাতন লুটপাটেরা চলে গেছে যেন আবার নতুন লুটপাট শুরু না হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশ ভোজ সহ বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ যেমন বৃক্ষরোপণ, কৃষি কার্ড বিতরণ এর মত নানা জনকল্যাণ মূলক সিদ্ধান্তের জন্য জনগণের মন জয় করেছেন। উনার মন্ত্রণালয়ের সদস্যবৃন্দ যদি একইভাবে সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তাহলে সরকারে ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে এবং বিরোধী দলের সমালোচনা কমে যাবে।
কিশোরী দর্শনের বিচার যাবজ্জীবন হওয়া উচিত নয়।যার মেয়ে কিংবা যে কিশোরি ধর্ষিত হয় তার কষ্ট উপলব্ধি বিবেচনায় জঘন্যতম কাজে সমাপ্তি করতে চাইলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াব ব্যাপারে বিজ্ঞ আদালতের অনুভূতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডাক্তার জাহিদুর রহমান বলেছেন "অন্তবর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তে স্বাধীন দুদক" বক্তব্যটি কতটুকু কার্যকর ? অন্তবর্তী সরকারের দুর্নীতি নিয়ে বর্তমান উপদেষ্টা সহ অনেক সিনিয়র সাংবাদিক বলেছেন এবং পত্রপত্রিকায় ও উল্লেখিত হয়েছে। আজ পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র অতীত সরকারদের ত্রুটি কথা বলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ধর্ষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন প্রতিটি মন্ত্রণালয়, সংস্থার কার্যবিধি পর্যালোচনার জন্য তদন্ত কমিটির গঠন করা। তাহলে যথাসময়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ গুণগতভাবে সম্পন্ন হবে।"বালিশ কান্ড", সিমেন্টের রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে কাজ সম্পাদন করে লুটপাট করার কাহিনী ঘটবে না।
আজ পর্যন্ত রাজস্ব বোর্ড থেকে ধনী লুটেরাদের থেকে যথাযথ পরিমাণ কর সংগ্রহের কার্যকর পদক্ষেপ বিশেষ উদ্দেশ্যে অনাগ্রহ রয়েছে। যেমন, ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট -রাজশাহী -খুলনা সহ বিভিন্ন শহরে ধনীকশ্রেণীর কি পরিমান সম্পদ, বিল্ডিং, গোপনীয় ব্যবসা রয়েছে তার কোন সুস্পষ্ট তালিকায় নেই। যেমন, একমাত্র বাংলাদেশে কিছু লোভী ডাক্তাররা দেড় হাজার থেকে দুই হাজার বা তার চেয়ে বেশি ভিজিট নিচ্ছেন, আবার রিপোর্ট দেখানোর জন্য ফি দিতে হয় যা আগে ছিল না। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশে ভারতে সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট চিকিৎসার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু আমাদের দেশে আমি মনে করি ৫০০ টাকার বেশি ভিজিট নেওয়া উচিত নয়। সেভাবে বাকিদের ভিজিট নির্ধারণ করতে হবে। এমনকি এসব ডাক্তারগণ ঠিকভাবে কর প্রদান করেন কিনা দেখা উচিত। এভাবে বিভিন্ন ধনিক শ্রেণীর কর আদায় ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা দেখা উচিত। তাহলে কর জিডিপি অনুপাত ৩০% অর্জন সম্ভব হবে। রাজস্ব বিভাগে দুর্নীতির পরিমাণ ব্যাপক, তা তদন্ত করা একান্ত উচিত গোপনীয় বিভাগ কর্তৃক।
বিভিন্ন নদীর বালুকাটা সিন্ডিকেট নিয়ে বহুদিন ধরে পত্রিকায় লেখা হচ্ছে সাধারণ মানুষ, ও অর্থনীতি মহাঝুকির সম্মুখীন। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কে কঠিন জবাবদিহিতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত শাস্তি বিধান রাখতে হবে।
বিদেশি ঋণ আহরণ ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধ বিশ্লেষণ করে ঘাটতি কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গতিশীল বাণিজ্যের লক্ষ্যে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসারতা বহুমুখীকরণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জিডিপির আকার বৃদ্ধির বিকল্প নেই এবং সুযোগও আছে। প্রয়োজন কার্যকরী পদক্ষেপের। পরোক্ষ করের মাধ্যমে সহজে আয়ের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।তবে আমাদের দেশের মতো সবচেয়ে ঘনবসতি দরিদ্র দেশে এই পদ্ধতিটি সাধারণ জনগণের জন্য কাঙ্খিত নয়।
বর্তমানে জনগণকে আইন হাতে নিতে দেখা যাচ্ছে, যা কাম্য নয়। যে এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটবে সেই এলাকার থানার ওসি এবং জনপ্রতিনিধিদেরকে জবাবদিহিতাই আনতে হবে। তাহলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ব্যাপক উন্নতি হবে। জনগণ শান্তিতে অফিস -আদালত, ব্যক্তিগত কাজ নিশ্চিন্তে করতে পারবে।
বাজেট বাস্তবায়ন উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন, বন্যার সময়ে জনগণের স্বার্থে বিদেশিদের মত কার্যকব বাঁধ দিতে হবে। শুষ্ক মৌসুমের জন্য জলাধার নির্মাণ করতে হবে। কৃষি বহুমুখীকরণ ও কৃষকদের ফসলের রক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ হিমাগার নির্মাণ করতে হবে। বিদেশে শিক্ষিত জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা ও নার্সিং ইনস্টিটিউট এর সংখ্যা বাড়াতে হবে। শিল্পের বহুমুখীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুদান দিতে হবে, যেন আমাদের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পায়। আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস মজুদ রয়েছে, অথচ আমরা গ্যাস আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতেছি যা কাম্য নয়। তাই গ্যাস উত্তোলনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এরকম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাছাই করে যথাসময়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রফেসর ড.প্রিয় ব্রত পাল
প্রাক্তন অধ্যাপক
অর্থনীতি বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।