টেকনাফ প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১০ মাসের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে আবারও শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। মৌসুমের প্রথম দিনেই ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছে ‘এমভি বারো আউলিয়া’। জাহাজটি দ্বীপে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুল দিয়ে বরণ ও মিষ্টিমুখ করিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। দুপুরে দ্বীপে পৌঁছালে পর্যটকদের ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিনের পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেই স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যেও ফিরেছে আশার আলো।
মৌসুমের প্রথম দিনেই পরিবার নিয়ে দ্বীপে বেড়াতে আসা ঢাকার উত্তরা এলাকার পর্যটক দম্পতি রাইয়ান ও নাফিসা বলেন, সেন্টমার্টিনে আসার ইচ্ছা অনেক দিনের। মৌসুমের প্রথম জাহাজেই আসতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। বিশেষ করে দ্বীপে পৌঁছানোর পর স্থানীয় মানুষের আন্তরিক অভ্যর্থনা তাঁদের মুগ্ধ করেছে।
জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, পর্যটকদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৫ নভেম্বর প্রথম দিনে একটি জাহাজ চলাচলের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সব শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে। নিয়ম অমান্যকারী পর্যটক কিংবা পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারি নির্দেশনা ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে। এ জন্য সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলার পাশাপাশি পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।