নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে বর্তমানে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের আগামী ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে পর্যটনকেন্দ্র ত্যাগ করে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে সাজেক সড়কে অবরোধকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত দুই সংগঠন ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডাকে রোববার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়।
অবরোধকারীরা দীঘিনালার জোড়াব্রিজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কের গঙ্গারাম বাজার, রেতকাবা মুখ, দোপাতাছড়া ও উজোবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচলে বাধা দেন। নিরাপত্তার শঙ্কায় খাগড়াছড়ি ও সাজেকের মধ্যে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে আটকা পড়েন প্রায় ১ হাজার ২০০ পর্যটক।
পরে সেনাবাহিনীর পাহারায় পর্যটকবাহী যান চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা সেগুলো আটকে দেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ার পর প্রায় ১১ ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
তবে দিনভর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তে সাজেক ভ্রমণ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের সেখানে যাত্রা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।