ডেঙ্গু নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি
টেকনাফ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ডেঙ্গু মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। অভিযানে দোকানের সামনে থাকা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এক দোকানিকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) টেকনাফ বাসস্টেশনের ঝরনা চত্বর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ও দোকানের সামনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দোকানিদের ফুটপাত দখল না করা, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ঘোষিত তিন মাসব্যাপী সাপ্তাহিক ডেঙ্গু মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম চলছে। এতে টেকনাফের বিভিন্ন এনজিও পার্টনার স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পর্যায়ক্রমে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির আহমদ বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এ জন্য প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। তবে অভিযান শেষে যেন আবার ফুটপাত দখল না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
টেকনাফ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন আহমদ বলেন, পৌরসভার সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। টেকনাফ বাসস্টেশন থেকে উপজেলা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরকারের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এস.এম. অনীক চৌধুরী বলেন, প্রত্যেক দোকানের সামনে নির্ধারিত স্থানে ডাস্টবিন রাখতে হবে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেখান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। রাস্তাঘাটে কিংবা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। ডাস্টবিনের বাইরে ময়লা পাওয়া গেলে জরিমানা করা হবে। এ সময় দোকানিদের সামনে অবৈধ স্থাপনা না বসানো এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানে টেকনাফ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন আহমদ, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন খান, উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. শফিউল হাবিব ভূঁইয়া, উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন, পৌর হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ সৈয়দ হোসেন, পৌর কর আদায়কারী রবিউল ইসলাম, পৌর প্রধান সহকারী মো. ওসমানুল কবির (ওয়াসিম), এনজিও ফোরামের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আফজাল হোসাইন, বিজিএস এরিয়া প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আবদুল হামিদ, হাইসাওয়ার উপজেলা ওয়াশ কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন, মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পৌরসভার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।