নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ এবং গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন জানান, ৫৫ বছর বয়সী বিদিশা একটি প্রতারণা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত। আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় চলতি বছরের ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল মোশাররফ হোসেনের। পরিচিতজনের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির জন্য চুক্তি হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। এরপর উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদন করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলার নথি অনুযায়ী, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়।
বাদীর অভিযোগ, এরপর বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি। এমনকি তাকে ‘সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি’ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
বিদিশা ১৯৭১ সালে খুলনার বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ‘দীনা’। তার বাবা ছিলেন কবি আবু বকর। ১৯৯৮ সালের ১৪ জুলাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে বিদিশার প্রথম পরিচয় হয়। পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির এক ছেলে শাহাতা জারাব এরশাদ (এরিক)।
এরশাদের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিদিশার ব্যক্তিগত জীবন বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। বিদিশা ‘শত্রুর সঙ্গে বসবাস’ নামে একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থও লিখেছেন।