আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগের পর ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমিরাতের প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আমিরাতের সাধারণ নাগরিকদের মুঠোফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে সবাইকে অবিলম্বে নিকটস্থ নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আকস্মিক এ সতর্কবার্তায় দুবাইসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার প্রায় ১৫ মিনিট পর পরিস্থিতি নিরাপদ জানিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর পরপরই আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ বা বাণিজ্যিক নৌযানকে লক্ষ্য করে ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। এর একটি আমিরাতের সীমানার বাইরের সমুদ্রে এবং অন্যটি আঞ্চলিক জলসীমায় গিয়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না হানলেও ঘটনাটিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছে আবুধাবি।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আমিরাত সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগ তুলে তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে আবুধাবি।
সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে নতুন করে চরমে পৌঁছে দিয়েছে।
অন্যদিকে, আমিরাতের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় এ ধরনের অভিযোগ ক্ষতিকর।
বাঘাই আরও বলেন, চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি সব পক্ষকে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হওয়া এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান সংকটকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে জুনে দুই মাসের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও কোনো ইতিবাচক ফলাফল ছাড়াই তা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের প্রচেষ্টা আবারও বড় ধাক্কা খেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না। অন্যদিকে ইরান বলেছে, তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সাধারণ নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না।
সূত্র: এনডিটিভি