নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যে পোনা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য দেশের সাধারণ ও গ্রামীণ মানুষের উপকার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করা।
নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা বিনামূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার সব ব্যয় সরকার বহন করবে।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করা হয়েছিল। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নারী শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ভালো ফলাফল করা মেয়েদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বছরে একবার করে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, প্রতি বছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারী সমাজকে শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যেসব নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জে জাতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব মাছ বড় হয়ে ডিম ছাড়ার পর বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর সুফল বাংলাদেশের মানুষই ভোগ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ এখানে যে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলো, এসব মাছ যখন বড় হবে, ডিম পাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে, তখন এর উপকার কারা পাবেন? লন্ডনের মানুষ, নাকি জাপানের মানুষ? বাংলাদেশের মানুষই এর উপকার পাবে।”
তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিএনপির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সরকার ধাপে ধাপে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে উল্লেখ করে তিনি এ ধরনের অপতৎপরতার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে আজ বিকেল ৪টায় কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ভাতা, অনুদান ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৯৪ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, ভাতা, অনুদান ও পুরস্কার তুলে দেবেন। এর মধ্যে ১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এছাড়া ১৫ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিকে সম্মানী ভাতা দেওয়া হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেল ৪টায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদরিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিকে সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
সফরের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।