স্টাফ রিপোর্টার
দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং ভিটামিন 'এ'-এর ঘাটতিজনিত ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজিদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এইচ কে দেবনাথ। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, সাধারণ জনগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকালে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, "আজকে দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ০৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস শরীরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি থাকে না, এটি বাইরে থেকে এবং খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। বাংলাদেশে সময়মতো টিকা না দেওয়ার কারণে সম্প্রতি হামের মতো জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যা প্রতিরোধে এই ক্যাম্পেইন অত্যন্ত জরুরি।
প্রশাসক জানান, ময়মনসিংহে দিনব্যাপী ২৩৮টি কেন্দ্রে এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশেষ করে মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশনসহ যেসব অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া এলাকা রয়েছে, সেসব এলাকার একটি শিশুও যেন এই সুবিধা থেকে বাদ না যায়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। একই সাথে তিনি সকল অভিভাবককে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে নিজ নিজ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং অপুষ্টিজনিত নানা জটিলতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো শিশুই যেন এই কর্মসূচির আওতার বাইরে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এবং অপুষ্টি মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিটি অভিভাবককে এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।