নিজস্ব প্রতিবেদক
হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে দানের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ না থাকলেও বিষয়টি ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তবে তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, সে বিষয়েও কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ জুন। সেদিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে থাকা ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। জেলা প্রশাসনের দাবি ছিল, মাজারের দানের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ডিসি সারওয়ার আলম সে সময় বলেছিলেন, মাজারে দীর্ঘদিন ধরে দানের অর্থ বণ্টনে অনিয়ম চলে আসছে। দানের অর্থকে জনস্বার্থে সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার জন্যই প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে এবং এসব অর্থ মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজারের খাদেম, আশেকান ও ভক্তদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার পরপরই মাজার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অন্যদিকে, ডিসি সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। অনেকের মতে, মাজারের দানের অর্থের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের কারণেই তিনি চাপে পড়েছেন। তারা এটিকে একটি সংস্কারমূলক পদক্ষেপের পরিণতি হিসেবে দেখছেন।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভেজালবিরোধী অভিযানে আলোচিত সারওয়ার আলম অতীতেও বিভিন্ন প্রশাসনিক উদ্যোগের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে।
তবে মাজারের দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার সাম্প্রতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সরকারি সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট না হলেও, মাজারকেন্দ্রিক ঘটনাবলিই তার প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।