বিনোদন ডেস্ক
কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনের তৃতীয় গান ‘পাতার বাঁশরি’ প্রকাশের পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছে। ঈশান মজুমদার ও সুনিধি নায়কের কণ্ঠে পরিবেশিত গানটি শ্রোতাদের কাছে অতীতের বাংলা, লোকঐতিহ্য এবং স্বর্ণযুগের সিনেমার আবহ ফিরিয়ে এনেছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।
গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় কোক স্টুডিও বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত গানটি প্রথম ১২ ঘণ্টায় প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার ভিউ অর্জন করে। প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবের মন্তব্যঘরে শ্রোতাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
অনেকেই গানটিকে ‘স্বর্ণযুগের বাংলা সিনেমার অনুভূতি’ বলে অভিহিত করেছেন। কারও মতে, গানটি শুনলে মনে হয় যেন ঐতিহাসিক পানাম নগরের কোনো জমিদারবাড়ির সংগীত আসরে বসে আছেন।
কোক স্টুডিও বাংলার বর্ণনায়, ‘পাতার বাঁশরি’ একটি প্রেমের গান, যেখানে ইতিহাস, লোকঐতিহ্য এবং সুরের মেলবন্ধন ঘটেছে। গানের গল্পে এক প্রেমিকা প্রিয় মানুষের বাঁশির সুরে বারবার আকৃষ্ট হয়। দূরে সরে যেতে চাইলেও সেই সুর ও ভালোবাসার টান তাকে আবার ফিরিয়ে আনে। প্রতীকী অর্থে ‘পাতার বাঁশরি’ দুই হৃদয়ের বন্ধনের পাশাপাশি দীর্ঘ প্রতীক্ষারও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
গানটির কথা ও সুর করেছেন ঈশান মজুমদার। গীত রচনায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইলিয়াস হোসেন। সংগীতায়োজন করেছেন অদিত রহমান। আর কোক স্টুডিও বাংলার চলতি সিজনের কিউরেশন ও প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব।
এর আগে ‘দাঁড়ালে দুয়ারে’ গানের মাধ্যমে প্রশংসিত হন ঈশান মজুমদার। অন্যদিকে সুনিধি নায়ক কোক স্টুডিও বাংলার পরিচিত মুখ। এর আগে তিনি শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে ‘সন্ধ্যা তারা’ গানে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছেন।
ভিডিও নির্মাণেও এবার এসেছে ভিন্নতা। কোক স্টুডিওর প্রচলিত স্টুডিও সেটের পরিবর্তে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরে গানটির ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। শতবর্ষী স্থাপনা, ঐতিহাসিক পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে ভিডিওটি গানের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
সুর, লোকঐতিহ্য, চিত্রায়ণ এবং শিল্পীদের পরিবেশনার সমন্বয়ে ‘পাতার বাঁশরি’ কোক স্টুডিও বাংলার চলতি সিজনের অন্যতম আলোচিত পরিবেশনা হিসেবে ইতোমধ্যে শ্রোতাদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।