স্পোর্টস ডেস্ক
ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষেও ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল জার্মানি। আফ্রিকার ‘হাতি’ খ্যাত আইভরিকোস্টের জমাট রক্ষণ আর ফাউলের গ্যাঁড়াকলে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে জুলিয়ান ন্যাগলসম্যানের তুরুপের তাস বা ‘সুপার সাব’ হয়ে যেন রূপকথার এক গল্প লিখলেন ডেনিজ উনদাভ। ফিলাডেলফিয়ার মাঠে তাঁর দুর্দান্ত জোড়া গোলের ওপর ভর করে আইভরিকোস্টের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে এনে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে জার্মানি। আর এই রোমাঞ্চকর জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব (শেষ ১৬) নিশ্চিত করল ডাই ম্যানশাফটরা।
এই জয়ের মাধ্যমে জার্মানি তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক বড় জুজু কাটাল। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে চতুর্থ শিরোপা জয়ের পর, এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখল তারা। এর মাঝের গত দুটি আসরেই (২০১৮ ও ২০২২) তাদের গ্রুপ পর্বের নির্মম বিদায় উপাখ্যান সইতে হয়েছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আইভরিকোস্টের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে জার্মানি। শুরুর দিকেই একবার বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মেতেছিল জার্মান সমর্থকরা, তবে রেফারি ফাউলের কারণে সেই গোলটি বাতিল করে দেন। উল্টো ম্যাচের ৩০তম মিনিটে গোল হজম করে বসে জার্মানি। জার্মান বক্সের ভেতর এক জটলার সুযোগ নিয়ে ফিরতি বলে দুর্দান্ত শটে আইভরিকোস্টকে এগিয়ে নেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক কেসি (১-০)।
পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া জার্মানি প্রথমার্ধেই আবারও আইভরিকোস্টের জালে বল পাঠিয়েছিল। কাই হাভার্টজের নেওয়া শটটি জালে জড়ালেও রেফারি পুনরায় গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন। কারণ, শট নেওয়ার ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার ইমানুয়েল আগবাদু ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ন্যাগলসম্যানের শিষ্যরা।
বিরতি থেকে ফিরে গোল শোধে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে জার্মানি। তবে আইভরিকোস্টের শক্তিশালী ডিফেন্স লাইনে এসে বারবার খেই হারাচ্ছিল তাদের আক্রমণভাগ। অবশেষে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ডেনিজ উনদাভ। নাদিম আমিরির নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক গোল করে জার্মানদের সমতায় ফেরান এই স্ট্রাইকার (১-১)।
পরিসংখ্যান: ২০০৬ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতল জার্মানি।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই মঞ্চস্থ হয় আসল নাটক। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৪ মিনিটে (৯৪ মিনিট) আবারও আইভরিকোস্টের রক্ষণ দুর্গ চূর্ণ করেন সেই উনদাভ। মাঝমাঠ থেকে আসা এক চমৎকার থ্রু পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে জার্মানিকে উল্লাসে ভাসান তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর এই গোলেই ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মানি।
টানা দুই জয়ে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে নকআউট নিশ্চিত করল জার্মানি। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে আইভরিকোস্ট। ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করা আফ্রিকার দলটির নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনো ভালোভাবেই টিকে আছে। অন্যদিকে, এক ম্যাচ করে খেলা একুয়েডর ও কুরাসাও এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।