ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
ছবি:
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প থেকে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন চাঞ্চল্যকর দাবির পর এবার নিজের স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ঋণের অভিযোগের জবাব দেন।
সাক্ষাৎকারে তাঁর কাছে প্রশ্ন রাখা হয়— "নির্বাচনের আগে বিনা জামানতে আপনার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন, আসলেই কি বিষয়টি এমন?" জবাবে জামায়াত নেতা মাসুদ বলেন, "হ্যাঁ, তিনি ঋণ নিয়েছেন। আমার স্ত্রী একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ (আই স্পেশালিস্ট)। তিনি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই হোম লোন (গৃহ ঋণ) নিয়েছেন। ব্যাংক থেকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর এই দুই কোটি টাকার লোন নেওয়াটা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয় এবং এটি আলোচনার মধ্যে আসার মতো কোনো বিষয়ই হতে পারে না।"
এর আগে, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তাঁর স্ত্রীর নামে কোনো ধরনের জামানত (কমিটমেন্ট বা কোল্যাটারাল) ছাড়াই ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি টাকার বেশি লোন সুবিধা নিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তোলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, "জামায়াত নেতারা চতুরতার সঙ্গে নিজেদের নামে লোন না নিয়ে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা দলের সাধারণ কর্মীদের নামে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। এর ফলে তাদের কখনো ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ থাকে না।" তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, "তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখেন— তারা বিনা জামানতে কোটি কোটি টাকা ঋণ পেয়ে যায়, কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ কি চাইলেই এই সুবিধা পাবে?"
বিএনপি নেতার এমন অভিযোগের জবাবে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুণ্ন করার জন্য এবং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে নেওয়া একটি সাধারণ লোনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।