চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন চরমানিকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নৌকা ও জাল নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা-ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পার্শ্ববর্তী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হারুন মাঝি ও তার ছেলে মো. ফরিদ আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—পার্শ্ববর্তী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুর হোসেন, মো. কবির, শাহাবুদ্দিন, শাহে আলম সর্দার, জাকির, নুরে আলম ও রফিজল বাগন আলী।
আহত হারুন মাঝির অভিযোগ, রাতে খালে বাঁধা থাকা তাদের নৌকা নিয়ে নুর হোসেন ও মো. কবিরসহ কয়েকজন তাদের ৬০ ছড়া জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। সকালে তিনি ও তার ছেলে ফরিদ ঘাটে গিয়ে নৌকা দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর নুর হোসেনকে তাদের নৌকা ও জাল দিয়ে মাছ ধরে ঘাটে আসতে দেখে ফরিদ নৌকা নেওয়ার কারণ জানতে চান।
হারুন মাঝি বলেন, এ সময় নুর হোসেন ‘ মন চাইছে তাই নিয়েছি’ বলে জানান। পরে হারুন মাঝির ছেলে ফরিদ এর প্রতিবাদ করলে নুর হোসেনের চাচাতো ভাই কবির লাঠি দিয়ে ফরিদের মাথায় আঘাত করেন। এতে ফরিদ জ্ঞান হারিয়ে খালের পানিতে পড়ে যান। ছেলেকে উদ্ধারের জন্য পানিতে নামলে তাকেও কবির লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন হারুন মাঝি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে ছেলেকে নিয়ে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর আবারও হামলা চালায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
হারুন মাঝি বলেন, পরে তারা দ্রুত বাড়িতে পৌঁছালে অভিযুক্তরা বাড়ি ঘেরাও করে আবারও হামলার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, অভিযুক্ত শাহে আলম সর্দার ও তার সহযোগীরা এলাকায় প্রায়ই মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে সংঘবদ্ধভাবে হামলার শিকার হতে হয় বলেও দাবি করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নুর হোসেন বলেন, ‘ছোট বিষয় নিয়ে কথাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।’ অন্যের নৌকা ও জাল নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নদীতে মাছ ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে পরে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’