নিউজ ডেস্ক
খ্যাতিমান চিত্র শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার।
ছবি:
খ্যাতিমান শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন। চলতি মাসের ১৪ তারিখে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত এই শিল্পী সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা-এর সন্তান। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা ও সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অংশ নেন এবং ছবি আঁকার কারণে কারাবরণও করেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম নকশাকার হিসেবেও তাঁর অবদান স্মরণীয়।
বাংলাদেশে পাপেট শিল্পকে জনপ্রিয় করে তোলায় তিনি ‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে যুদ্ধাহত ও আতঙ্কগ্রস্ত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি জীবনের প্রথম পাপেট শো আয়োজন করেন। স্বাধীনতার পর সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে দেশের পাপেট শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।
শিশু-কিশোরদের জন্য তাঁর সৃষ্টিশীল অবদান ছিল অসামান্য। তিনি জনপ্রিয় চরিত্র ‘পারুল’ সৃষ্টি করেন, শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘মীনা’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের বহুল জনপ্রিয় প্রতিভা বিকাশের অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়ি নির্মাণ করেন। তাঁর নির্মিত মনের কথা অনুষ্ঠানও দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
কর্মজীবনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন।
শিল্প, সংস্কৃতি এবং শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৪ সালে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক লাভ করেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সৃজনশীল কর্ম, শিল্পভাবনা এবং শিশুদের জন্য নির্মিত অসংখ্য সৃষ্টি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।