নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ১০ জেলায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, বর্তমানে ছয় জেলার পাঁচটি প্রধান নদীর সাতটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদীতীরবর্তী নিচু এলাকায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের চলমান বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান বলেন, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ধীরগতির হতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। একই সঙ্গে আগামী এক থেকে তিন দিনের মধ্যে ১০ জেলায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলেও জানান তিনি।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রেকর্ড অনুযায়ী, বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারীতে ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বান্দরবানের লামায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
এদিকে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার, মৌলভীবাজারে মনু নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং নেত্রকোণার কমলাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী তিন দিনে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৩০০ থেকে ৪৫০ মিলিমিটার এবং উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৫০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়লে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। একই সঙ্গে সুরমা নদীতেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভোগাই-কংস নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের নিচু এলাকায় নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে মুহুরি, ফেনী ও সেলুনিয়া নদীর পানির স্তর আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এছাড়া উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানিও আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এ কারণে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নিচু এলাকায় বন্যা সতর্কতা জারি করেছে এফএফডব্লিউসি।