নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং ডিজিটাল গভর্নেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র, শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, দ্বৈত ডিগ্রি প্রোগ্রাম এবং যৌথ নীতি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম ২০২৬ অন দ্য কমপ্যারেটিভ ফোরাম’-এর সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিআইআইএসএস এবং চীনের ফুদান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিকাশ শুরু হয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় তা আরও শক্তিশালী হয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত হয়েছে।
তিনি বলেন, চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। সেতু, মহাসড়ক, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পাঞ্চল এবং ডিজিটাল সংযোগসহ বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ নতুন উদ্যম ও প্রত্যয়ে উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সুশাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে এবং জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নগর পরিকল্পনা, কৃষি ও জনসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ঝাং পিং বিআইআইএসএসের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পথ সুগম করবে।
বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এএসএম রিদওয়ানুর রহমান বলেন, এই ফোরাম বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অর্থবহ একাডেমিক সংলাপ ও নীতিগত মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করায় সমাপনী অনুষ্ঠানে ৩৭ জন অংশগ্রহণকারীর হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সুশাসনের আধুনিকায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, ডিজিটাল গভর্নেন্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, শিল্পায়ন এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ফুদান ইউনিভার্সিটি ও বিআইআইএসএসের শিক্ষকবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।