ক্রীড়া ডেস্ক
আগের দুই ম্যাচ হেরে ওয়ানডে সিরিজ আগেই হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ। তাই তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে লক্ষ্য ছিল অন্তত হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে টাইগাররা। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের পর ব্যাটারদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে স্বস্তির জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
এর ফলে ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কা কেটে গেছে। তবে তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
হারারেতে টস জিতে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ৪৯.৪ ওভারে ১৯৯ রানে অলআউট হয়। জবাবে বাংলাদেশ ৩৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০০ রানের লক্ষ্য স্পর্শ করে সহজ জয় নিশ্চিত করে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ১৫১ রান, যা জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাংলাদেশের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এই জুটিই মূলত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয় বাংলাদেশের হাতে।
সৌম্য সরকার ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৬৯ রান করে চিভাঙ্গার বলে বোল্ড হন। এটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম অর্ধশতক।
অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিম খেলেন অসাধারণ এক ইনিংস। শতক থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে ৯৪ রানে আউট হন তিনি। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। জয়ের জন্য যখন মাত্র ৪ রান প্রয়োজন, তখন বড় শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
শেষদিকে তাওহীদ হৃদয় শূন্য রানে আউট হলেও জয়ের পথে আর কোনো বাধা আসেনি।
বাংলাদেশের জয়ে জিম্বাবুয়ের ফিল্ডিং ব্যর্থতাও বড় ভূমিকা রেখেছে। স্বাগতিকরা ম্যাচে পাঁচটি ক্যাচ ফেলেছে, যার পূর্ণ সুবিধা নিয়েছেন সৌম্য ও তানজিদ।
এর আগে বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। একাদশে ফিরে ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি।
স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন ওয়েসলি মাধভেরে। ৭৪ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি আসে শুরুতে জীবন পাওয়ার পর। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ৪৩ বলে ৫০ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি। এছাড়া ইনোসেন্ট কাইয়া করেন ২৫ রান। বাকি কোনো ব্যাটারই ২০ রানের বেশি করতে পারেননি।
ওয়ানডে সিরিজ শেষ হলেও বাংলাদেশের জিম্বাবুয়ে সফর এখনও বাকি। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারানোর পর এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে টাইগাররা। আগামী ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তিনটি ম্যাচ।