আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ৩১) শুরু হতে আর মাত্র এক মাস বাকি। অথচ একের পর এক ভয়াবহ জলবায়ু বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির পরও তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনকে ঘিরে প্রত্যাশা ও প্রচারণা তুলনামূলকভাবে ম্লান। অন্যদিকে, জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনের বাইরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ, কানাডায় দাবানল, সুপার এল নিনোর সম্মিলিত প্রভাব এবং নেপালে হিমবাহ ধসে পড়ার ঘটনা এ বছর দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, ২০২৬ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছরে পরিণত হতে পারে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক সংকট এবং জাতিসংঘের সংস্কার কার্যক্রমও তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ৩১-এর আগে হতাশা বাড়িয়েছে। ফলে সম্মেলন থেকে কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপের বিষয়ে প্রত্যাশা কম।
তবে বৃহত্তর জলবায়ু আন্দোলনে নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অগ্রগতির নানা দৃষ্টান্ত তুলে ধরছেন। এসব উদ্যোগের অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতির প্রক্রিয়ার বাইরে এগিয়ে চলেছে।
ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের আদিবাসী নেত্রী জুমা শিপাইয়া প্রতিবছরের এই জলবায়ু সম্মেলনকেন্দ্রিক কার্যক্রমে নতুন মুখ। অবৈধ খনন ও বন উজাড়ের বিরুদ্ধে নিজের সম্প্রদায়ের ভূমি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন তিনি।
সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ক্লাইমেট উইক এনওয়াইসিতে অংশ নেন শিপাইয়া। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শহরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু আন্দোলনকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, জনহিতৈষী ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীদের একত্র করে। সেখানে তিনি নিজের সহ-প্রযোজনায় নির্মিত ইয়ানুনি চলচ্চিত্রের প্রচার করেন। চলচ্চিত্রটির অন্য প্রযোজকদের মধ্যে রয়েছেন রিচার্ড লাডকানি ও লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও।
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে একটি পার্শ্ব-আয়োজনে বক্তব্য দেওয়ার পর জেনেভা সলিউশনসকে শিপাইয়া বলেন, “আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে এমন একটি পরিসরে আসতে পারব।”
তিনি জানান, জীবনের প্রতি হুমকি এবং চার বছর ধরে নীরব থাকতে বাধ্য হওয়ার পর পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া উপলব্ধি তাঁকে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে সাহায্য করেছে। সেই তাগিদ থেকেই তিনি নিউইয়র্কে এসেছেন।
তিনি বলেন, “মানুষকে কীভাবে মানুষ হতে হয়, তা অন্য মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করতে হওয়াটা অযৌক্তিক। সামাজিক ও জলবায়ু অবিচারের মূল্য আমাদের সবাইকে দিতে হচ্ছে, যার পরিণতি হলো জলবায়ু জরুরি অবস্থা ও বিপর্যয়।”
পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু মোকাবিলায় জাতিসংঘ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, জাতিসংঘ তার সক্ষমতা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে এবং মানবতার জন্য যা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়িত হবে। তবে সত্যিকার অর্থে আমার আস্থা মানুষের শক্তির ওপর।”
কপ সম্মেলনের অসমাপ্ত কর্মসূচি
শিপাইয়ার বক্তব্যের স্থান থেকে খুব বেশি দূরে নয়, জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জলবায়ু সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তাঁর মেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ছিল অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর হওয়ার এক দশক পূর্তির প্রেক্ষাপটে তিনি সদস্যদেশগুলোর জন্য একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা তিন গুণ করা, অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে বিদ্যুতায়িত করা, বন উজাড় অর্ধেকে নামিয়ে আনা, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণ ত্বরান্বিত করা এবং জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর মতো লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কপ৩১-এর সহ-আয়োজক তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া আগামী নভেম্বরের সম্মেলনকে ‘বাস্তবায়নের কপ’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। কয়লা সরবরাহ শৃঙ্খলে অংশীদার এই দুই দেশ আগেও বিভিন্ন সম্মেলনে ব্যবহৃত এ ধারণার মাধ্যমে বিদ্যমান অঙ্গীকারগুলো বাস্তবে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিতে চায়। তবে একই সঙ্গে তারা বিদ্যুতায়ন বাড়ানো ও বর্জ্য শূন্যে নামিয়ে আনার নতুন লক্ষ্যও প্রস্তাব করেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর দুরবস্থা তুলে ধরতে এ বছর টুভালু ও ফিজিতে প্রাক-কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূলত ওই অঞ্চলের নেতারা অংশ নেন; অন্য অঞ্চল থেকে উপস্থিতি ছিল সীমিত।
সাধারণত মূল সম্মেলনের আগে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের জন্য প্রাক-কপ আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবারের অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ভানুয়াতুর জলবায়ুমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু। তাঁর মতে, এতে স্পষ্ট হয়েছে যে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্বসংকটকে বিশ্বের বৃহত্তর অংশ খুব কম গুরুত্ব দিচ্ছে।
জলবায়ু পদক্ষেপে অর্থনীতির ভূমিকা
রাজনৈতিক সমর্থন কমে আসার পরিস্থিতিতেও জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন কপ২০-এর সভাপতি এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের জলবায়ু ও জ্বালানি বিভাগের বৈশ্বিক নেতা ম্যানুয়েল পুলগার ভিদাল।
জেনেভা সলিউশনসকে নিউইয়র্কে তিনি বলেন, জলবায়ু সম্মেলনের শুরু থেকেই জাতিসংঘ অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। দেশগুলোকে বোঝানো হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও নিজস্ব উন্নয়নের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
পেরুর সাবেক পরিবেশমন্ত্রী পুলগার ভিদালের ভাষায়, “শুরু থেকেই জাতিসংঘের জলবায়ু প্রক্রিয়া অর্থনীতির কাছে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংকেত পাঠিয়েছে। দেশগুলোকে জানানো হয়েছে, এই বিতর্কের বিষয় হলো প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও তাদের নিজস্ব উন্নয়ন।”
রাজনৈতিক সমর্থন কমে আসায় অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলোকে নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতির দিকেও নজর দিতে হবে, কারণ অর্থনীতি ইতোমধ্যে গতিশীলভাবে জলবায়ু বিষয়গুলোকে গ্রহণ করেছে এবং জলবায়ু নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ভূমিকা রাখছে।”
জলবায়ু নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে পুলগার ভিদাল বলেন, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে বিনিয়োগকারী দেশগুলোই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, “যে শক্তি সফল হবে, সেটিই হবে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল।”
জেনেভায় গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত টেকসই অর্থায়নবিষয়ক সম্মেলন ‘বিল্ডিং ব্রিজেস’-এও একই ধরনের বার্তা উঠে এসেছে। সেখানে সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা টেকসই অর্থনীতিতে উত্তরণের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করেন।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে জ্বালানি রূপান্তরের বিষয়টি আবারও সরকারের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের নজরেও এসেছে।
বেইজিংভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির প্রেসিডেন্ট মা জুন সম্মেলনে বলেন, জলবায়ুবান্ধব বিনিয়োগে বাধা কমাতে সরকারি প্রণোদনা, সবুজ ঋণ এবং গ্রিন ফাইন্যান্স ট্যাক্সোনমি বা পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের শ্রেণিবিন্যাস গ্রহণ জরুরি।
তবে উন্নত দেশ থেকে জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থায়নের প্রবাহ এখনো কপ সম্মেলনে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম।
এই ঘাটতি পূরণে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ভূমিকার কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা এখনো মূলত বাণিজ্যিকভাবে বেশি লাভজনক প্রকল্পের দিকেই ঝুঁকছেন। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রকল্পে অর্থায়ন তুলনামূলক বেশি হলেও জলবায়ুর প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রকল্পগুলো পিছিয়ে থাকছে।
জেনেভার সম্মেলনে অর্থ খাতের কয়েকজন অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিগত আলোচনায় অভিযোজন প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, অনেক নির্বাহী জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধিতে বেশি আগ্রহী।
জলবায়ু পদক্ষেপে বিকল্প পথ
জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু কূটনীতি কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পরিসরে জলবায়ু পদক্ষেপের গতি বাড়ছে।
গত মে মাসে ভানুয়াতুর নেতৃত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। এতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ঐতিহাসিক পরামর্শমূলক মতামতের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া এই আইনি উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ঐতিহাসিক পরিবেশগত ক্ষতির দায় নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
এর কয়েক সপ্তাহ আগে কলম্বিয়ার সান্তা মার্তায় বৈঠকে বসে প্রায় ৬০টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণের বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ৩০-এ আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় হতাশা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রতিষ্ঠান এসডিজি ইমপ্যাক্ট ফাইন্যান্স ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী টেনকে জোলতানি বলেন, টেকসই অর্থায়ন খাতের অনেকেই মনে করছেন, তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ৩১ আগের বছরগুলোর তুলনায় কম অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এটি কি দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা ফলাফলের অভাবের কারণে?”
তিনি আরও বলেন, অর্থায়ন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে সেভিয়া এবং উন্নয়নের জন্য অর্থায়নবিষয়ক অন্যান্য আয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এসব অনুষ্ঠানে অন্তত আরও বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে আলোচনায় যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে বার্ষিক জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পুলগার ভিদাল। তাঁর মতে, এসব সম্মেলনে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, “আপনি কি কল্পনা করতে পারেন, যদি আমরা উন্মুক্ত অংশগ্রহণের সুযোগ কমিয়ে দিতাম, যেখানে নাগরিক সমাজ, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, প্যাভিলিয়ন, কর্মপরিকল্পনা, ব্যবসায়িক খাত—এমনকি লবিস্টরাও একত্রিত হতে পারে? তাহলে জলবায়ু নিয়ে আলোচনা বাতিল হয়ে যেত।”
কপ৩১ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে প্রশ্নটি শুধু জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের গুরুত্ব কমছে কি না, তা নয়। বরং আন্তর্জাতিক আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া জলবায়ু আইন, অর্থায়ন, নাগরিক সমাজ এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এগিয়ে চলা পদক্ষেপের সঙ্গে কতটা তাল মেলাতে পারছে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।