আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গেলেন্দঝিকের একটি জনবহুল সৈকতে ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো এ ঘটনাকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কিয়েভের ‘পরিকল্পিত হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষই দাবি করে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না।
সৈকতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, গেলেন্দঝিক শহরের আরখিপো-ওসিপোভকা অবকাশকেন্দ্রের ব্যস্ত সৈকতে একটি ড্রোন আঘাত হানার পর বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সৈকতে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রেতিয়েভ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “আজ যা ঘটেছে, তা সামরিক অবকাঠামোর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকা সাধারণ মানুষের ওপর কিয়েভ সরকারের পরিকল্পিত হামলা।”
এর আগে তিনি এক বিবৃতিতে ড্রোনের ভেঙে পড়া ধ্বংসাবশেষের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
তবে ড্রোনটি ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে গতিপথ হারিয়েছিল, নাকি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে সৈকতে বিধ্বস্ত হয়েছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হাসপাতালে ২১ জন, ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে ২১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পারস্পরিক অভিযোগ
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এ ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন।
এর আগে গত মাসেও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলের একটি অবকাশকেন্দ্রে হামলায় চার শিশুসহ ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মস্কো কিয়েভকে দায়ী করেছিল।
অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া নিয়মিত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এতে হাজারো বেসামরিক মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সম্প্রতি ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে তেল শোধনাগার, জ্বালানি অবকাঠামো এবং ই-কমার্স গুদামকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে সাধারণ রুশ নাগরিকদের কাছেও যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে কিয়েভ।